Sunday, April 26, 2026

আমাকে মনে রাখেনি তো কি? আমরা গানটা তো ‘জাগল’: অভিমানী “বড়লোকের বিটি লো”-স্রষ্টা

Date:

Share post:

ব়্যাপার বাদশা ও পায়েল দেবের গাওয়া নয়া মোড়কে “বড় লোকের বিটি লো” গানটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কিন্তু বাংলার মাটির গন্ধ লেগে থাকা এই গানের স্রষ্টা আজও আড়ালেই। মিউজিক ভিডিওর কোথাও তাঁর নামের উল্লেখ নেই। তিনি প্রচারের আলো থেকে শতহস্ত দূরে থাকা শিল্পী রতন কাহার। লকডাউনে অশীতিপর শিল্পী গৃহবন্দি। সংসারে অর্থাভাব। তবু আজও তাঁর গান আবার এত প্রিয় জনপ্রিয় হওয়ায় চোখ ছলছল করে উঠল অভিমানী লোকগানের শিল্পী রতন কাহারের। বীরভূমের সিউড়ি পুরসভার সোনতোড় পাড়ার বাসিন্দা রতন কাহারের ভাদু গানে অবাধ বিচরণ। পাশপাশি, ঝুমুর, প্রভাতী কীর্তন বা লোকগানে- রতন কাহারের জুড়ি মেলা ভার। ১২শোর বেশি লোকগানের রচয়িতা তিনি। কিন্তু নিজে রয়ে গিয়েছেন প্রচারের আড়ালে।

১৯৭৬ সালে যে গান গেয়ে বিখ্যাত হয়েছিলেন শিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তী, সেই “বড়োলোকের বিটি লো, লম্বা লম্বা চুল….” ১৯৭২ সালে লিখেছিলেন বীরভূমের ভূমিপুত্র রতন কাহার। গেয়েছেন বহু অনুষ্ঠানেও। সম্প্রতি সোনি মিউজিক ইন্ডিয়া তাঁদের ইউটিউব চ্যানেলে বাদশা ও পায়েল দেবের গাওয়া একটি গান পাবলিশ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন, ” গেঁদা ফুল ” । মুক্তির প্রথম দিনেই এক কোটি মানুষ এই গান শুনে ফেলেছেন। এখন গানটি ভারতে ইউটিউবে ১ নম্বরে ট্রেন্ডিং চলছে। অথচ প্রাপ্য সম্মান ও অর্থ থেকে বঞ্চিত স্রষ্টা। নামটুকুও সৌজন্যমূলক ভাবে উল্লেখ করা হয়নি ভিডিওতে!
কিন্তু কেন? প্রশ্ন তুলে নিন্দার ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যখন তাঁর প্রতি বঞ্চনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় তখন প্রচারের আলো থেকে শতহস্ত দূরে রতন কাহার বললেন, “আমাকে মনে রাখেনি, তো কি হয়েছে? আমরা গানটা তো ‘জাগল’। একদিন অভাব অনটন নিয়েই চলে যাব। তবুও কাউকে প্রতিদান চাইব না।”
সিউড়ির সোনতোড় পাড়ার এক চিলতে বাড়িতে গত ১৫ দিন ধরে গৃহবন্দি তিনি। করোনা আতঙ্কের মাঝে দারিদ্র্যের ছাপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক ছেলে প্রভাত লটারি বিক্রি করেন রাস্তা ধারে। আজ তাঁর কাজ নেই। ছোট ছেলে শিবনাথ মাছের আড়তে কাজ করতেন। লকডাউনের জেরে মালিক আডড় বন্ধ করে দেওয়ায় কাজ গিযেছে। এখন নুন আনতে পান্তা ফুরনো অবস্থা। এককালে দু’মুঠো ভাত জোগাড় করার জন্যে বিড়ি বেঁধে সংসার চালাতেন এই লোকশিল্পী। আর এখন ভরসা বলতে, এদিক-ওদিকে দু’-চারটে অনুষ্ঠান। করোনার প্রভাবে বাড়িতে বন্দি, অনুষ্ঠান তো দূরের কথা।
অথচ, এমন কি হওয়ার কথা ছিল? সম্মান ও প্রাচুর্য কি প্রাপ্য নয় শিল্পী রতন কাহারের? তাঁর লেখা আরও গান পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল দেশ-বিদেশের প্রান্তে।কিন্তু বাংলার মাটির সেই শিল্পী বিস্মৃতির আড়ালেই রয়ে গেলেন।

Related articles

দ্বিতীয়দফায় কর্মী সঙ্কট? প্রথম দফার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদেরই ফের থাকার নির্দেশ কমিশনের

প্রথম পর্যায়ে ভোট হয়েছে ১৫২টি কেন্দ্রে। দ্বিতীয় দফায় সংখ্যাটা কিছুটা কম- ১৪২। তা সত্ত্বেও কর্মী সঙ্কটে ভুগছে নির্বাচন...

IPL: পন্থদের বিরুদ্ধে পাথিরানার অভিষেক! জেনে নিন নাইটদের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ

আজ লখনউ সুপার জায়েন্টের বিরুদ্ধে নামছে কলকাতা নাইট রাইডার্স(KKR)। কেকেআরের কাছে এই ম্যাচ বদলারও। ইডেনে শেষ সাক্ষাতে মুকুল...

এলাকায় বাইক বাহিনী! পুলিশ-প্রশাসনকে পদক্ষেপের নির্দেশ কমিশনের, কটাক্ষ তৃণমূলের

বাইক থেকে 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এই ভিডিও পোস্ট করে পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলল নির্বাচন কমিশন...

রবিবার সকালে আকাশের মুখ ভার, দুপুরের পরেই ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস!

প্রবল গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলবে কি, সকালে আকাশের চেহারা দেখে ঠিক এমন প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে দক্ষিণবঙ্গবাসীর মনে।...