Thursday, June 4, 2026

করোনা আতঙ্কের মাঝেই বেনজির হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন শহরে

Date:

Share post:

করোনা মোকাবিলার মাঝেই অসাধ্য সাধন করলো শহরের এক বেসরকারি হাসপাতাল। হৃদ-প্রতিস্থাপনের মধ্য দিয়ে এক রোগীকে কার্যত মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরিয়ে আনলেন ডাক্তার কুণাল সরকারের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল।

৪৫ বছরের অমিত কুমার দে নদিয়ার বাসিন্দা। হৃদযন্ত্রের অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা করাতেন ডাঃ সরকারের কাছে। দেবগ্রামের ইলামবাজার থেকে আসতেন। একটা সময় এসে ডাক্তার সরকার বুঝতে পারেন হার্ট প্রতিস্থাপন ছাড়া বিকল্প কোনও উপায় নেই। তাই রোটোর তালিকায় নাম লেখানো হয়। এরই মাঝে ১৭ ফেব্রুয়ারি রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়, ভর্তি হন মেডিকা হাসপাতালে। প্রতিস্থাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ততদিন ভেন্টিলেশনে ইন্ট্রা অ্যাওর্টিক বেলুন পাম্প সাপোর্টে রাখা হয় অমিতকে। কিন্তু মার্চ থেকেই রোগীর অবস্থা খারাপ হতে শুরু হয়। সংক্রমণ শুরু হয়। এই সময় ১৭ মার্চ নাগাদ পাটনার ইন্দিরা গান্ধী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স হাসপাতাল থেকে বিকল্প হৃদযন্ত্রের সন্ধান মেলে। পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম যুবকের ব্রেন ডেথ হয়। মেডিকার সঙ্গে কথা হয় ওই সংস্থার। এরপরের ঘটনা রীতিমতো রোমহর্ষক।

১৮ মার্চ সকালে কলকাতা থেকে চিকিৎসক দল যায় হার্ট সংগ্রহ করতে। বিহার সরকারের সঙ্গে কথা হয়। কথা হয় বিধাননগর পুলিশের সঙ্গেও। অনুরোধ গ্রিন জোন তৈরি করে রাখা। ইন্ডিগো বিমানে করে ডাক্তাররা ইন্দিরা গান্ধী হাসপাতালে গিয়ে হৃদযন্ত্র সংগ্রহ করেন। এক মিনিট সময় নষ্ট না করে বিমানে উঠে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছতে হবে। নইলে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই পাইলট থেকে শুরু করে সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন ঘড়িতে দম দেওয়া পুতুলের মতো। পাটনা থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতে সময় লাগে ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট। কিন্তু খোদ পাইলট বিষয়টিতে এতখানি মানসিকভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন যে ১৫ মিনিট আগেই বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে নামিয়ে দেন। আর তাড়াহুড়োয় এক স্বাস্থ্যকর্মীকে বিমানে নিতে বেমালুম ভুলেও যান! বিধাননগর পুলিশের গ্রিন জোন ধরে নিমেষে পৌঁছে যায় অ্যাম্বুল্যান্স হাসপাতালে। এরপর দীর্ঘ অস্ত্রোপচার এবং নতুন জীবন ফিরে পাওয়া।

সুস্থ অমিতবাবু ফিরে গিয়েছেন বাড়িতে,নদিয়ায়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে কিছু নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে। ডাঃ কুনাল সরকার জানালেন, এই মুহূর্তে করোনার সংক্রমণ পরিবেশে। সেই কারণে কিছু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুদিন অন্যদের সংস্পর্শে আসা যাবে না। এই বিধি নিষেধ মানলে কিন্তু আর চিন্তার কারণ থাকবে না। আমরা খুশি যে অমিতবাবুকে নতুন জীবন দিতে পেরেছি। তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁর টিমের চিকিৎসক সন্দীপ সরকার, অর্পণ চক্রবর্তী, দীপাঞ্জন চ্যাটার্জি ও সৌম্যজিৎ ঘোষকে।

Related articles

রাজ্যে শিল্প ও কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ! নবান্নে বৈঠক শুভেন্দু-আদানির

দায়িত্বভার গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার নবান্নে...

বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ সূর্য, টি২০-তেও নতুন নেতা

  ২০২৪ সালে ভারতকে টি২০ বিশ্বকাপ জিতিয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন রোহিত শর্মা। এবার বিশ্বকাপ জিতিয়েও...

‘তৃণমূল মানেই মমতা’, দলবিরোধীদের কড়া ভাষায় তোপ বিধায়ক কুণালের 

তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই তৃণমূল, এই সত্য গোটা বিশ্ব জানে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইদানীং...

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ আদালতের 

স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় মূল অভিযুক্ত প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কেন এতদিনেও...