Friday, February 27, 2026

শতবর্ষে সত্যজিৎ

Date:

Share post:

ক্যামেরা, কলম, তুলি, সুর। এই নিয়েই সত্যজিৎ। অস্কারজয়ী সত্যজিৎ রায়। ৫০ দশকে দাঁড়িয়ে যে সিনেমা তৈরি শুরু করেছিলেন, তা আজও গো গ্রাসে গেলে বাঙালি। কী নেই সেখানে! ক্যামেরার কাজ থেকে সম্পাদনা, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর থেকে সুর। নিজেই সামলেছেন সবটা। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। আজকের ডিজিটাল যুগে সেই সিনেমাগুলি প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। বরং বারবার মন কেড়েছে দর্শকদের।

সত্যজিত রায় তাঁর সিনেমার মধ্যে তুলে ধরেছেন সমাজের বিভিন্ন দিক। গণশক্র থেকে আগন্তুক কিংবা অপু ট্রিলজি প্রতিটা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন সমাজকে। আবার শুধু পরিচালনাতে থেমে থাকেননি। সিনেমার ক্ষেত্রে সুর কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাও বুঝিয়েছিলেন। গুপী গাইন বাঘা বাইনের অন্যবদ্য সুর গুন গুন করে নতুন প্রজন্মও। এমনই প্রভাব সত্যজিতের। নিজেই লিখেছেন ফেলুদার মতো গোয়েন্দা সিরিজ। আবার তাকেই চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন। ‘ফেলুদা ‘ নামে জলজ্যান্ত একটা চরিত্র তৈরি করে দিয়েছেন অস্কারজয়ী চলচ্চিত্রকার।

১৯২১ সালে ২ মে উত্তর কলকাতার গড়পার রোডে তাঁর জন্ম। বাংলা সিনেমার মাইলফলক তিনি। কোনও সিনে ইনস্টিটিউশন বা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের চার দেওয়ালের মধ্যে সত্যজিতের সিনেমা বোঝা সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। সত্যজিৎ রায় যে মানের চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন তা বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করেছিল। জাপানি চিত্রপরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া বলেছিলেন, “যিনি সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র কখনো দেখেননি তিনি যেন এই পৃথিবীতে বাস করেও সূর্য এবং চন্দ্র দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেছেন নিজেকে।”

তবে সত্যজিৎ রায়ের সীমাবদ্ধতা শুধুমাত্র চলচ্চিত্র জগতে নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরে এমন প্রতিভা বাংলা আর কটা পেয়েছে তা খুঁজতে বসতে হবে। যখনই যা ভেবেছেন তাই করেছেন। আর তাতেই সেরা হয়ে উঠেছেন সত্যজিৎ।

রোল, ক্যামেরা, অ্যাকশনের বাইরেও আরও এক বিরাট জগৎজুড়ে রয়েছে তিনি। বাংলা বা বাঙালি নয়। বিশ্ব জুড়ে তাঁর খ্যাতি। সাহিত্যিক, সুরকার, ক্যালিগ্রাফিতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার।

বাংলা উপন্যাসেও তাঁর অবদান নেহাত কম কিছু নয়। লিখতে বসলে হারিয়ে গিয়েছি মনে হয়। তাঁর রচিত ফেলুদা-র খ্যাতি জগৎজোড়া। এমনকী ফেলুদার ভাবধারাকে বজায় রেখে আজকের দিনেও পরিচালকরা তৈরি করে চলেছেন ডিটেকটিভ সিনেমা। একই সঙ্গে সত্যজিৎ সুরের ছন্দে মাতিয়েছেন তাঁর দর্শকদের। চলচ্চিত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর, সুরের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তাও বুঝিয়েছিলেন অস্কারজয়ী পরিচালক। তাই তাঁকে কোনও গণ্ডিতে বেঁধে রাখা যায় না। তিনি সত্যজিৎ। যিনি আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

spot_img

Related articles

স্বপ্নের বিয়ে: উদয়পুরের ডেস্টিনেশনে বিয়ের পরে আবেগঘন পোস্ট বিজয়-রশ্মিকার

কখনও হৈ হৈ করে হাসছেন। কখনও সেই হাসির মধ্যেই চোখ ভরে যাচ্ছে জলে। সঙ্গী সাথীদের খুনসুটি দেখে মনে...

উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা:  কলকাতা পুরসভার ইফতারে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সর্বধর্মের সমন্বয়

বাংলার সংস্কৃতিতে যে সহনশীলতা ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ঐতিহ্য ছিল, তা বাইরের শত্রুরা নষ্ট করার চেষ্টা করলেও তাতে যে...

চিপকে স্বস্তির জয়, ইডেনেই ‘কোয়ার্টার ফাইনাল’ সূর্যদের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের(T20 World Cup) সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রাখল ভারত(India)। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৭২ রানে জয় পেলে ভারত(India)...

শনিবার ‘চূড়ান্ত’ ভোটার তালিকা: থাকবে সব ভোটারের নাম

ইনিউমারেশন ফর্ম ফিলাপ। খসড়া তালিকা প্রকাশ। তালিকায় নাম থাকা না থাকার বিভ্রান্তি। সব হয়রানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ...