করোনা আক্রান্তের হদিশ, এলাকা সিল করতে বারুইপুরে পুলিশে ছয়লাপ

রেড জোনের আওতায় ছিলই। প্রথম করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলতেই এবার আরও তৎপর হল বারুইপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন। গোটা এলাকা কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছে।

ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন অংশ সিল করেছে পুলিশ।

আজ, সোমবার বিকেলে জানা যায় বারুইপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এক ব্যক্তির শরীরে করোনা সংক্রমণের হদিশ মিলেছে। বর্তমানে তিনি সল্টলেকের একটি বেসরকারি হার্ট স্পেশালিস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনকয়েক আগেই বুকে সংক্রমণ, শ্বাস-কষ্ট, নিমোনিয়া ও হার্টের সমস্যা নিয়ে প্রথমে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে সল্টলেকের ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আজ, সোমবার রিপোর্টে কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে। বিকেলে এই খবর চাউর হতেই শুধু ১০ নম্বর ওয়ার্ড নয়, গোটা বারুইপুর শহরে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় গোটা বারুইপুর শহরজুড়ে। তাঁর পরিবারের ৬ জন সদস্যকে পুলিশি নজরদারিতে আপাতত হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তি নম্বর ওয়ার্ডে বৈষ্ণব পাড়া অঞ্চলে একটি স্টেশনারি ও জেরক্সের দোকান চালাতেন। দূরদূরান্ত পর্যন্ত তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনও ভিনদেশি বা ভিনরাজ্য যোগ নেই। তবে ওনার দোকানে প্রচুর মানুষ ও এলাকার ছাত্রছাত্রীরা নিয়মিত যেতেন।

জানা গিয়েছে ওই ব্যক্তি মাঝে মধ্যেই বারুইপুর পুরাতন বাজার, হসপিটাল বাজার ও কাছারি বাজারে বিভিন্ন দোকানে যাতায়াত করতেন। ইতিমধ্যেই বাজারগুলিকে সিল করার চিন্তাভাবনা করছে পুলিশ। আগামীকাল থেকে বিশাল ফোর্স নিয়ে এরিয়া ডমিনেশন শুরু করতে পারে পুলিশ।

এদিকে এলাকার মানুষ স্থানীয় প্রশাসনকে দাবি করেছে, রাস্তাঘাটে আরও নজরদারি বাড়ানোর। প্রতিদিন সকাল থেকে বাজার ও রাস্তাগুলিতে ব্যাপক ভিড় হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেদিকে নজর এড়িয়ে গেছে পুলিশের। এদিন আবার এলাকায় মদের দোকানগুলি খোলার পর লকডাউন বিধি লঙ্ঘন করে ব্যাপক ভিড় হয়েছে। সামাজিক দূরত্বকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মদ কিনতে দূরদূরান্ত থেকে অবাধে বারুইপুর ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। সেদিকে কার্যত নজর নেই পুলিশের। প্রশাসনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। বারুইপুর জেলা পুলিশের উপর ভরসা হারাতে শুরু করেছেন মানুষ।