Saturday, June 27, 2026

বিজয় উৎসবের পরেই রণক্ষেত্র সন্দেশখালি! নব্য-আদি দ্বন্দ্বে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরাই

Date:

Share post:

লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তীব্র দলীয় কোন্দলে রক্ত ঝরল সন্দেশখালিতে। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার এই স্পর্শকাতর এলাকায় ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরে আদি এবং নব্য শিবিরের লড়াই চরমে উঠেছিল। রবিবার বিকেলে সেই অভ্যন্তরীণ বিবাদই প্রকাশ্য রাস্তায় খণ্ডযুদ্ধের রূপ নিল। নিজেদের দলীয় কর্মীদের ওপরই ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠল দলেরই অন্য গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে সন্দেশখালির মণিপুর এলাকায়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে এলাকায় নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেশখালি এলাকায় বিজেপির জয়ের পর রবিবার মণিপুর অঞ্চলে একটি বিজয় মিছিলের আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। আবির খেলা আর বাজি ফাটানোর মধ্য দিয়ে সাড়ম্বরেই চলছিল সেই মিছিল। কিন্তু অভিযোগ, মিছিল শেষ করে যখন কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতী তাঁদের ওপর আচমকা চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঠিসোটা এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত হন অন্তত তিনজন বিজেপি কর্মী। তাঁদের আর্তনাদে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়। আক্রান্ত শিবিরের দাবি, পরিকল্পনা করে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের হাত রয়েছে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকায় বিজেপির দাপটে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কার্যত ঘরবন্দি, অনেকেই এলাকা ছাড়া। ফলে এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষে হামলা চালানো অসম্ভব। বাসিন্দাদের দাবি, মূলত এলাকার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়েই বিজেপির পুরনো কর্মীদের সঙ্গে নবাগতদের বিবাদ চলছিল। বিজয় মিছিলের রেশ ধরে সেই আদি ও নব্যদের গোষ্ঠী কোন্দলই এদিন রক্তক্ষয়ী চেহারা নেয়। নিজেদের কোন্দল ঢাকতেই এখন দায় এড়াতে বিরোধী শিবিরের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে।

এই ঘটনার পর থেকে মণিপুর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। দলের অন্দরের এই রক্তক্ষয়ী লড়াই নিয়ে জেলা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য মুখ খুলতে চাননি। তবে বিজয় উৎসবের আবহ কাটতে না কাটতেই যেভাবে নিজেদের কোন্দলে কর্মীরা রক্তাক্ত হলেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেই অস্বস্তি বাড়ছে।

আরও পড়ুন- জেলায় জেলায় বিজেপির গুন্ডাবাহিনীর তাণ্ডব! ঘরছাড়াদের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখল টিম তৃণমূল

_

_

_

_

_

_

Related articles

২৪ ঘণ্টায় চারবার ভূমিকম্প পাকিস্তানে! আফটার শকের সতর্কতা জারি 

মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে চারবার কেঁপে উঠল পাকিস্তান (Earthquake in Pakistan)! শনিবার সকালের শক্তিশালী কম্পনের জেরে আতঙ্কিত সাধারণ...

উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউটে স্পেন 

ফিফা বিশ্বকাপে (Fifa Football WC) শনিবার অ্যালেক্স বায়নার গোলে উরুগুয়েকে হারিয়ে রাউন্ড অফ ৩২ এ পৌঁছে গেল স্পেন...

তারাতলা বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭, আজও চলছে উদ্ধারকাজ 

তারাতলার গোডাউন বিপর্যয়ের (Taratala Godown Disaster) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৭। শুক্রবার রাতে বিহারের মুঙ্গারের বাসিন্দা শিরচন কুমারের...

এনসিইআরটির পাঠ্য বইতে এবার ‘SIR’, নিন্দায় সরব তৃণমূল কংগ্রেস 

একের পর এক পরিবর্তন! এবার এনসিইআরটি–র (NCRT ) নবম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্সের পাঠ্য বইতে যুক্ত হল ‘এসআইআর’। ভোটার...