উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় অবরোধ বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

একে করোনা আতঙ্ক, সঙ্গে গোদের ওপর বিষফোঁড়া আমফান! বিধ্বস্ত, বিপর্যস্ত বাংলা। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের পর ৪ দিন হতে চলল, এখনও বিদ্যুৎ নেই,জল নেই। বিচ্ছিন্ন টেলি যোগাযোগ, বিপর্যস্ত ইন্টারনেট পরিষেবা। কলকাতা থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, সর্বত্র ছবিটা একই। আর সময় যত গড়াচ্ছে, ততই অধৈর্য হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন মানুষ। কারণ, চূড়ান্ত অসহায় অবস্থায় দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।
শনিবার দুপুরে বিদ্যুৎ ও জলের দাবিতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ওপর দোপেরিয়া মোড় অবরোধ করলেন গ্রামবাসীরা। বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আমফান বিপর্যয়ের পর থেকেই বিদ্যুৎ নেই। জল নেই। অভিযোগ, পঞ্চায়েতকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। তাঁদের দাবি, যতক্ষণ না বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হবে, ততক্ষণ তাঁরা অবরোধ  চালিয়ে যাবেন। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিসবাহিনী। পুলিশের সাথে বচসা বেধে যায় উত্তেজিত জনতার। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে আহত হয়েছেন ১ পুলিশকর্মীও।
এরই পাশাপাশি টিটাগড়ের কাছে এই বিদ্যুৎ, জলের দাবিতে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় । বিটি রোড অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের সঙ্গে তুমুল বচসার পর একটি খড়বোঝাই গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ঘটনাস্থলে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী টিটাগড়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এছাড়া কামারহাটি, বেলঘরিয়ার নীলগঞ্জ রোড এবং ওল্ড নিমতা রোডে অবরোধ করেন এলাকাবাসী। অবরোধ করা হয় ডানলপ মোড়েও। সেই বিক্ষোভ অবরোধের অগ্রভাগে ছিলেন মহিলারা। সিইএসসির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে বচসা বেধে যায় । মহিলারা রাস্তায় শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন ।
খরদহতেও বিদ্যুতের দাবিতে স্থানীয়রা পথ অবরোধ করেন। পুলিশ – প্রশাসন এবং সিইএসসি র পক্ষ থেকে বলা হয় দ্রুত বিদ্যুৎের ব্যবস্থা করা হচ্ছে । যদিও অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের বচসা এবং হাতাহাতি বেধে যায়। যদিও পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা পুলিশের অনুরোধে অবরোধ তুলে নেয়। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক চলে এই অবরোধ, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।