বাল্ব জ্বালিয়ে গোপন কথা বলছেন? সাবধান! শুনে নেবে হ্যাকাররা…

খুব গোপন কথা। জোরাল আলো নিভিয়ে হালকা বাল্বের আলোয় বলছেন । কথা বলার আগে দেখে নিয়েছেন চারপাশ । কিন্তু আপনি টের পাওয়ার আগেই হ্যাকাররা শুনে নিচ্ছে না তো আপনার সেই গোপন আলোচনা! বাল নেই হ্যাকাররা শুনতে পারে আপনার গোপন কথাটি । ভাবছেন তো কি করে তা সম্ভব! অবিশ্বাস্য মনে হলেও আড়ি পাতার এমন উপায় বের করে ফেলেছে হ্যাকাররা। ইজরায়েলের বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটি এবং ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন এমনটাই।

কীভাবে হ্যাকাররা নতুন নতুন পদ্ধতির প্রয়োগ করছে, তার বিরুদ্ধে কীভাবে নিরাপত্তা গড়ে তোলা যায় সেই নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই এই পদ্ধতির কথা সামনে এসেছে। এখন আর চুপিচুপি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবের টেকনোলজিতে ফাঁকফোঁকর খোঁজার দরকার নেই। একেবারে ঘরের ভিতর নজর রেখেই গোপন কথা ফাঁস করে দেওয়া যাবে। অন্তত ৮০ ফুট দূর থেকেই কথোপকথন ধরে ফেলা যাবে এই পদ্ধতিতে।

লাইট বাল্বের দিকে তাকিয়ে গোপন রহস্য ফাঁস
ইজরায়েলের গবেষকরা এই প্রক্রিয়াকে বলছেন ‘ল্যাম্পফোন’। লাইট বাল্বের ভাইব্রেশন বা কম্পাঙ্ক বিশ্লেষণ করে শব্দের সন্ধান চালানো। সরাসরি নয় পরোক্ষভাবে। যাকে বলা হচ্ছে ‘রিয়েল টাইম প্যাসিভ সাউন্ড রিকভারি’। কীভাবে এটি সম্ভব?

ঘরের ভেতরে কোনও ডুম লাইট থাকলে পাখার হাওয়ায় বা বাতাসের চাপে এই লাইট বাল্বের ভেতরে একটা মৃদু কম্পন হয়। খুব সামান্য মাইল্ড ডিগ্রি কম্পন। গবেষকরা বললেন, কথাবার্তা বলার সময় যে শব্দ তরঙ্গ বের হয় তার প্রভাবেও এই আলোতে একটা কম্পন দেখা যায়। সেই কম্পনের মাত্রা কত যদি ধরে ফেলা যায় এবং বিশেষ উপায় এই কম্পনকে যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে সাউন্ড রিকভারিও সম্ভব।

এই আলোর কম্পন ধরা যাবে কীভাবে?

আলোর কম্পন ধরার জন্য দরকার টেলিস্কোপ এবং ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর। গবেষকরা বলছেন, যে ঘরের কথাবার্তা শুনতে হবে সেখানে তাক করে তিনটি টেলিস্কোপ বসাতে হবে। ১০,২০ ও ৩৫ এই তিন রকম ডায়ামিটারের লেন্স থাকবে। এই টেলিস্কোপের সঙ্গে লাগানো থাকবে ২৪/৩২ বিটের ডিজিটাল কনভার্টার। তাছাড়া থাকবে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সেন্সর। এবার ঘরের মধ্যে হাওয়ায় বা কথাবার্তার কারণে বাল্বে যে কম্পন হবে তাকে ইলেকট্রিক্যাল থেকে ডিজিটালে পরিবর্তিত করা হবে। সেই কাজ করবে ওই ডিজিটাল কনভার্টার। শব্দ তরঙ্গের কারণে যে কম্পন তৈরি হবে তাকেই বোধগম্য ভাষায় নিয়ে আসবে ওই কনভার্টার। এই পুরো প্রক্রিয়াটা ৮০ ফুট বা ২৫ মিটার দূর থেকেও করা যাবে। একবার আলোর কম্পন বিশ্লেষণ করে সাউন্ড রিকভারি যদি করে ফেলা যায় তাহলে কথাবার্তা শুনতে গুগল ক্লাউড স্পিচ ব্যবহার করা হবে। গবেষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিটা একটু জটিল। তবে অসম্ভব নয়। বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির বেন নাসি, ইয়ারোঁ পিরুটিন, জুভাল ইলোভিসি, বরিস জ্যাডভ এবং ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউটের আদি শমির রয়েছেন এই গবেষণার নেতৃত্বে।

তবে জটিলতাও আছে। এর জন্য হ্যাকারদের দরকার একটু পুরনো ধাঁচের লাইট বাল্ব। স্মার্ট এলইডি লাইট বা অন্যান্য স্মার্ট লাইটে এই পদ্ধতিতে কথা শোনা একটু জটিল।