রেলের বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল শহর, বিক্ষোভ-সমাবেশ তৃণমূলের

কেন্দ্রীয় সরকারের রেলের বেসরকারিকরণ-এর বিরুদ্ধে আজ, মঙ্গলবার কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান-বিক্ষোভ পালিত হলো। বেশিরভাগ জায়গাতেই নেতৃত্ব দিলেন রাজ্যের প্রথমসারির নেতা-মন্ত্রীরা।

এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব তথা রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যয় তাঁর বিধানসভার কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন। বেহালার জেমস লং সরণির ১১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হয় এই অবস্থান-বিক্ষোভ। দলীয় কর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মেয়র পারিষদ তারক সিং, অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অবস্থান-বিক্ষোভ জমায়েত ছিল সংক্ষিপ্ত। বক্তব্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের রেলের বেসরকারিকরণ-এর নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

অন্যদিকে, ডগ ইস্টার্ন রোডে খিদিরপুর চক্র রেল স্টেশনে রেলের বেসরকারিকরণ-এর বিরুদ্ধে অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেন মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম ।

এদিন ফিরহাদ হাকিম জানান, মোদি সরকার যেদিন থেকে কেন্দ্রে এসেছে সেদিন থেকেই ধর্মের নামে ভারতকে ভাগ করতে চাইছে। আসলে তারা ভারতের মধ্যে ক্যাপিটালিস্ট ভারত এবং পুওর ভারত তৈরি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ করেন ফিরহাদ।

কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির সমালোচনা করার পাশাপাশি
ফিরহাদ হাকিম বাম-কংগ্রেসের ভূমিকারও সমালোচনা করেন। আমফানের ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে মিছিল করছে বাম-কংগ্রেস তাকে তিনি বিদ্রুপ করে বলেন, যদি কোনও মানুষের দুটো পা চলে যায় সে যদি কারও কাঁধে ভর দিয়ে চলে তাহলে কিছু বলার নেই । বিষয়টি ভালো, তবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেখেছে ৩৪ বছরে বামেদের দুর্নীতি ।তাদের আয়লা দুর্নীতি, মাটি কেলেঙ্কারি, ট্রেজারিে কেলেঙ্কারি। এই সবকিছু মানুষক ভুলে যায়নি বলে আরও একবার বাম-কংগ্রেসকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের আরেক মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এদিন একই ইস্যুতে বালিগঞ্জ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তুলোধনা করেন। একইসঙ্গে, শিয়ালদহ, হাওড়া, বিধাননগর, চিৎপুর, দমদমের মতো বড় বড় স্টেশনগুলির বাইরে কেন্দ্রের রেল বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।