এক মুখ দাড়ি-গোঁফ আর গেরুয়া পাঞ্জাবীতে মোদি যেন সন্ন্যাসী! অভিজিৎ ঘোষের কলম

অভিজিৎ ঘোষ

লকডাউনে ভোল বদল প্রধানমন্ত্রীর। দিন যত গড়াচ্ছে, লকডাউন থেকে আনলক থ্রিতে ঢোকার মুখে নিজেকে ততই বদলে ফেলেছেন নরেন্দ্র মোদি।

দাড়ি-চুলের অন্দরে ক্রমশ যেন ঢাকা পড়ে যাচ্ছেন মোদি। সেই ট্রেঞ্চ করা সাদা দাড়ি, চুলের ইতালিয়ান কাট কোথায় যেন উধাও।

২২ মার্চ জনতা কার্ফুর শেষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন যখন, তখন দাড়ি-চুল সব হিসেব করা পরিপাটি। গায়ে পাঞ্জাবির উপর নীল মোদি কোট। পারফেক্ট।

এপ্রিল থেকে মোদি কোট আর নেই। গলায় উত্তরীয়। ভাষণ দেওয়ার আগে মুখ থেকে যা গলায় নামিয়ে রাখা শুরু, অনেকটা বলিউডি নায়কদের স্টাইলে।

মে মাসে পাঞ্জাবী ধপধপে সাদা ছিল না। পরিবর্তে হালকা গোলাপি, সঙ্গে উত্তরীয়র রঙও মানানসই, সাদা-খয়েরি। থুতনির তলায় দাড়ির গভীরতা বেড়েছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে হেয়ার ডিজাইনারের আসা-যাওয়া কমেছে। চুল ব্যাক ব্রাশ।

জুন মাসে হালকা ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবী, গলায় লাল-হলুদ কুর্তা, যা শতবর্ষে আস্পর্ধা দেখানো ইস্টবেঙ্গলপ্রেমীদের খুশি করতেই পারে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, দাড়ি আর গোঁফ বেড়েছে। তাকে কোনওরকমে আঁচড়িয়ে বশে রাখা হয়েছে। কানের পাশের চুল যে আর বশ্যতা মানছে না, তা বেশ বোঝা যায়।

আর অগাস্টের প্রথম দিনে অর্থাৎ জুলাই শেষ করে দামোদরভাই যেন অনেকটাই সন্ন্যাসীদের মতো। অবাধ্য দাড়ি প্রায় নেমে এসেছে বুকের কাছে। তাকে পোষ মানাতে ভয়ানক কসরৎ করতে হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। গলায় উত্তরীয়। এবং সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো মোদির পরণে গেরুয়া পাঞ্জাবী। চুল সম্পূর্ণ ব্যাকব্রাশ যা তলার দিকে গুটিয়ে গিয়েছে। শোনা যাচ্ছে লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর পঞ্চবটী বাংলোয় ক্ষৌরকার বা হেয়ার কাটারের আসা কার্যত কমে গিয়েছে। এও শোনা যাচ্ছে, করোনার লকডাউন পর্ব না মিটলে সম্ভবত চুলে কাঁচি চালাবেন না নরেন্দ্র মোদি! সত্যি কী তাই? বিরোধীরা বলছেন, ব্যর্থতা ঢাকতে ইচ্ছাকৃত বেশ বদল!