অমানবিক! মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে বেদম প্রহার মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে

চূড়ান্ত অমানবিক! মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে মারধরের ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চার নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ। বাবা, মায়ের সামনেই এই মানসিক ভারসাম্যহীন রোগীকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে হাসপাতালের চার নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। তার জেরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুবক। কর্তৃপক্ষের কানে এই খবর পৌঁছতেই নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। অভিযুক্ত চার নিরাপত্তারক্ষীকে চিহ্নিত সঙ্গে সঙ্গেই সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঠিক কী ঘটেছিল ?

আক্রান্ত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে সপ্তর্ষিকে নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। ওই যুবকের বাবা একজন শিক্ষক। নাম সুদীপ্ত চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “ছেলে প্রায়শয়ই অসুস্থ হওয়ায় আমি বরাবর এখানে আসি চিকিৎসা করাতে। কিন্তু এমন ঘটনা যে ঘটে যাবে, ভাবতেই পারেননি।” জানা গিয়েছে, শনিবার বেলার দিকে ছেলেকে নিয়ে মেডিক্যাল কলেজে যান সুদীপ্তবাবু ও তাঁর স্ত্রী। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় না বুঝেই সপ্তর্ষি একটি কাচের টেবিলের উপর সজোরে টর্চ দিয়ে আঘাত করে। কাচ ভেঙে যায় টেবিলের।

কাচ ভাঙার শব্দ শুনে ছুটে আসেন হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা। অভিযোগ, সপ্তর্ষিকে চারজন মিলে বেধড়ক মারধর করতে থাকে, তাঁর বাবা-মায়ের সামনেই। সুদীপ্তবাবু ও তাঁর স্ত্রী রীতিমত কাকুতিমিনতি করতে থাকেন ছেলের হয়ে। সপ্তর্ষি মানসিকভাবে সুস্থ নয়, এ কথা জানিয়ে তাঁরা বারবার অনুরোধ করেন যাতে ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও বেদম প্রহার চলিয়ে যায় ওই নিরাপত্তারক্ষীর বলে অভিযোগ। এর জেরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে সপ্তর্ষি। তখন তাকে হাসপাতালে ভরতি করিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়।