Wednesday, June 24, 2026

আগামী ৫০ বছর বিরোধী আসনেই বসতে হবে কংগ্রেসকে, বোমা ফাটালেন আজাদ

Date:

Share post:

বোমা ফাটালেন কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ও জম্মু- কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদ। তাঁর মতে, দল এখন যেভাবে চলছে তা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী ৫০ বছর বিরোধী আসনে বসেই কাটিয়ে দিতে হবে কংগ্রেসকে। সম্প্রতি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের আগে অন্তর্বর্তী সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন গুলাম নবি আজাদ সহ দলের ২৩ জন সাংসদ ও নেতা। চিঠির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যেমন কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা আজাদ ও সহকারী দলনেতা আনন্দ শর্মা ছিলেন, তেমনি ছিলেন লোকসভার সাংসদ শশী থারুর, মনীশ তিওয়ারি এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কপিল সিব্বল, রেনুকা চৌধুরী, পি জে কুরিয়েন, মিলিন্দ দেওরা সহ আরও অনেকে। কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরে কাজের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাঁরা সাংগঠনিক সংস্কারের দাবি তোলেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল, বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই জোরদার করার স্বার্থে কংগ্রেসে দরকার যৌথ নেতৃত্ব এবং শীর্ষ পদে একজন সক্রিয়, দৃশ্যমান এবং পূর্ণ সময়ের সভাপতি। বিক্ষুব্ধ নেতাদের এই চিঠি পেয়ে বেদম চটে যান সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী দুজনেই। এরপর মা-ছেলের অঙ্গুলিহেলনে আজাদ সহ অন্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমে পড়েন গান্ধী পরিবারের অনুগত নেতারা। এই পরিস্থিতিতে এবার পাল্টা দিলেন আজাদও। বললেন, যারা দলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে নির্বাচন চান না, দলে ভোট হলে যারা সাধারণ কংগ্রেস কর্মীদের সমর্থন পাবেন না এবং যারা শুধু পদ আঁকড়ে থাকতেই সাংগঠনিক সংস্কারে ভয় পাচ্ছেন তারাই আমাদের সমালোচনায় নেমে পড়েছেন। আজাদের কথায়, আমরা নিজেদের ভাল না ভেবে কংগ্রেসের ভালর জন্যই এই কথাগুলো বলার প্রয়োজন মনে করেছি। বাধা এলেও কংগ্রেসের স্বার্থে তা বলে যাব।

রাজ্যসভায় কংগ্রেসের দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, সাংগঠনিক সংস্কার আরও ১৫-২০ বছর আগে করা উচিত ছিল। কাজের পদ্ধতি পালটানো দরকার। এগুলো এখন বলব না তো আর কবে বলব? পরপর দুটো লোকসভা নির্বাচনে আমরা বিপুলভাবে হেরেছি। এভাবে চললে আরও ৫০ বছর কংগ্রেসকে বিরোধী আসনে বসিয়েই কাটিয়ে দিতে হবে। শীর্ষ নেতৃত্ব যদি মনে করেন আমরা বরাবর বিরোধী হয়েই থাকব, তা হলে অবশ্য বলার কিছু নেই। কিন্তু সাধারণ কংগ্রেস কর্মীরা এটা চান না। আমরাও মনে করি কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবনের স্বার্থে শীর্ষ স্তরে যৌথ নেতৃত্ব থাকা জরুরি। সভাপতি পদে পূর্ণ সময়ের, দৃশ্যমান ও সক্রিয় নেতা দরকার। এখন বিভিন্ন রাজ্য, জেলা বা ব্লকে যারা সভাপতি হয়ে বসে রয়েছেন তাদের অধিকাংশেরই নীচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই তাই। এরা জানেন, দলে সাংগঠনিক নির্বাচন হলে তাদের পদ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। কারণ এরা অধিকাংশই ৫১ শতাংশ ভোট পাবেন না। ব্যক্তিগত স্বার্থেই এরা আমাদের আক্রমণ করছেন। এর সঙ্গে কংগ্রেস দলের ভবিষ্যৎ ভাবনার কোনও সম্পর্ক নেই।

Related articles

শোকজের পরে ফিরহাদ-অরূপদের দল থেকে বহিষ্কার করলেন মমতা? জল্পনা তুঙ্গে

দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও অরূপ রায়দের সোমবারে শোকজ করেছিল...

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস! তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

  বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ উঠল বাংলা দলের ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের(Abhisek porel) বিরুদ্ধে। এক ডাক্তারি পড়ুয়ার তরুণী মগরা...

বেআইনি সম্পত্তি অধিগ্রহণে নতুন বিলের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর! দুর্নীতি দমন নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? উঠছে প্রশ্ন

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন আনার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর...

উস্কানিমূলক মন্তব্য মামলা: অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করবে সিআইডি! আবেদন মঞ্জুর আদালতের

উস্কানিমূলক মন্তব্যের মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার অনুমতি পেল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা...