Friday, June 5, 2026

হাতে মাত্র একদিন, রিভিউ পিটিশনের শুনানি অনিশ্চিত, কণাদ দাশগুপ্তর কলম

Date:

Share post:

কণাদ দাশগুপ্ত

NEET – JEE পরীক্ষা পিছোনোর দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যৌথভাবে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছেন ৬ অ-বিজেপি রাজ্য, পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ড।

কিন্তু এই রিভিউ পিটিশনের ভবিষ্যৎ কী ?

NEET এবং JEE পরীক্ষা সংক্রান্ত এই আর্জি আদালতে আরও আগে করা উচিত ছিলো৷ একবারে শেষ মুহুর্তের এই
রিভিউ পিটিশনের শুনানি আদৌ হবে ? কারন হাতে আছে শুধুমাত্র একটি দিন, সোমবার ৷ ঠিক পরের দিন, মঙ্গলবার থেকেই JEE শুরু হবে৷ এই পরিস্থিতিতে ১ সেপ্টেম্বরের আগে এ মামলা নিয়ে কোর্টে কিছু হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে৷ মামলার মূল আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা আরও কয়েক জন বিশিষ্ট আইনজীবীও এমনই ভাবছেন৷ আবেদনের দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হলেও আইনি মহলের বক্তব্য, এই পিটিশন আরও আগে করা উচিত ছিলো৷ এখন যা পরিস্থিতি, তাতে ১ সেপ্টেম্বরের আগে শুনানি অথবা রিলিফ পাওয়া মুশকিল৷ ওদিকে ১ তারিখেই JEE শুরু হচ্ছে৷

পরীক্ষার্থীদের জন্য শুধুই ভালো কিছু আশা করা ছাড়া বাস্তবে এখন আর কিছুই ৬ রাজ্যের হাতে নেই৷ কারন, কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়া কোনও রাজ্যই NEET বা JEE-র মতো পরীক্ষা বন্ধ করতে পারবেনা৷ আইনত তা সম্ভবও নয়৷ এতেই বোঝা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ ছাড়া NEET এবং JEE পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই৷ এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন রয়েছে, যা এই রিভিউ পিটিশনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে৷
সাধারনভাবে শীর্ষ আদালতে বিভিন্ন রায় পুনর্বিবেচনার আর্জিতে আগের রায়ই বহাল রাখেন বিচারপতিরা৷ তাছাড়া রিভিউ মামলার শুনানি হয় মূল মামলার এজলাশেই৷ এই মামলার রায়েই গত ১৭ আগস্ট
সুপ্রিম কোর্ট রায় ঘোষণা করে বলেছে, “এ বছর নির্ধারিত তারিখেই হবে NEET ও JEE।” সংশ্লিষ্ট মামলা খারিজ করে সেদিন বিচারপতিরা বলেছিলেন,”ছাত্রছাত্রীদের কেরিয়ার কিছুতেই বিপদের মুখে ফেলা যাবে না।” সেই একই এজলাশে এই রিভিউ পিটিশনের ভবিষ্যৎ কতখানি পরীক্ষার্থীদের পক্ষে ইতিবাচক হতে পারে, ভাবাচ্ছে তা-ও৷

দ্বিতীয়ত, রিভিউ পিটিশনকারীরা দাবি করেছেন, এই মামলা করা হয়েছে শুধুই পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে৷ এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু আর্জি জানানো ৬ রাজ্যেই এখন বিজেপি বিরোধী দল ক্ষমতায়৷ ফলে, একদম রাজনীতি নেই, একথা বোঝানো মুশকিল ৷ এই মামলা কেন্দ্রও রাজনৈতিক কারনেই সিরিয়াসলি লড়তে পারে৷
আদালত নিয়ে আদালতের বাইরে কিছু বলা হলে, তাতে অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ ইদানিং সুপ্রিম কোর্টে বেশ কিছু মামলার যেভাবে নিষ্পত্তি করেছে, তা দেখার বা শোনার পরেও এ বিষয়ে কিছু না বলাই নিরাপদ৷ তবে এক্ষেত্রে একমাত্র “আশার আলো” প্রশান্ত ভূষণ এবং তাঁর আইনি লড়াই৷

জানা গিয়েছে, NEET এবং JEE পরীক্ষা সংক্রান্ত এই রিভিউ পিটিশনে তুলে ধরা হয়েছে একাধিক যুক্তি৷ তুলে ধরা হয়েছে, ঘোষিত দিনেই পরীক্ষা নেওয়া হলে পরীক্ষার্থীদের ঠিক কী কী সমস্যা হতে পারে৷ রিভিউ পিটিশনে সেই বিষয়টিকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে৷

১) পরীক্ষার্থীদের সুরক্ষা,

২) পরীক্ষাকেন্দ্রে আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা,

৩) সামগ্রিক পরিকাঠামো,

৪) চলতি শিক্ষাবর্ষে যথেষ্ট সময় থাকা সত্ত্বেও কেন পরীক্ষা স্থগিত করা যাবে না৷
বলা হয়েছে, বর্তমান শিক্ষাবর্ষে এখনও যতখানি সময় আছে, তাতে এ বছরের নভেম্বরে পরীক্ষা গ্রহণ করে অনায়াসে জানুয়ারিতে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ চালু করা সম্ভব৷ সব থেকে গুরুত্বপূর্ণভাবেই তুলে ধরা হয়েছে আরও একটি বিষয়৷ বলা হয়েছে,

এইভাবে পরীক্ষা নেওয়ার অর্থ, কেন্দ্র নিজেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা করোনা- প্রোটোকলের বিরোধিতা করছে৷ এ কাজ কতখানি সঙ্গত ?

কেন কেন্দ্র করোনা-নির্দেশিকা মানছে না, তার ব্যাখ্যায় পিটিশনে বলা হয়েছে, JEE-র ক্ষেত্রে প্রতি সেন্টারে পরীক্ষা দেবেন ১৫০০ জন পরীক্ষার্থী৷ NEET- এ এই সংখ্যা ৪৫০ জন৷ দু’ক্ষেত্রেই লঙ্ঘিত হচ্ছে কেন্দ্রের করোনা- প্রোটোকল৷ এক কেন্দ্রে এত মানুষের সমাগম যদি করোনা-কালে আইনসিদ্ধ হয়, তাহলে কেন এখনই স্বাভাবিক পথেই চালু করা হচ্ছে না লোকসভা, বিধানসভা, অফিস- আদালত, ধর্মস্থান৷

তবে ওই রিভিউ-পিটিশন যতই যুক্তিসঙ্গত হোক, তা কার্যকর হবে দ্রুত শুনানি হলেই৷ ১ সেপ্টেম্বরের আগে যদি শুনানিই না হয়, তাহলে কাজের কাজ কিছুই হবেনা৷ মাঝখান থেকে পরীক্ষার্থীদের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে৷ এভাবে সর্বভারতীয়স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দেওয়া সত্যিই মুশকিল৷
তাই, শীর্ষ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিলের সিদ্ধান্ত আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিলো৷ আরও আগেই এই ইস্যুতে বিজেপি-বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠকে বসাও উচিত ছিলো৷ কারন, এই সমস্যা হঠাৎ গজিয়ে ওঠেনি৷ গত ১৭ আগস্ট শীর্ষ আদালত জানিয়েছে নির্ধারিত দিনেই পরীক্ষা হবে৷ এই রিভিউ পিটিশনের যদি শুনানিই ঠিক সময়ে না হয়, তাহলে পরীক্ষার্থীদের কোনও উপকারই হবেনা৷
অথচ, বোঝাই যাচ্ছে, NEET এবং JEE পরীক্ষা এই মুহুর্তে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অন্যতম এক কেন্দ্রবিরোধী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে৷ এই অস্ত্র ভোট-রাজনীতির প্রচারেও ব্যবহৃত হতে পারে৷ এটা অভিপ্রেত কি’না, সেটাও অবশ্যই ভাবার৷

Related articles

কর্মিসভা ডাকুন, বুঝবেন কত ধানে কত চাল: দিল্লিতে দলীয় সাংসদদের বার্তা কুণালের

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পরে যেভাবে বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক ছক প্রকাশ্যে, সেই একই খেলা দিল্লির সংসদেও খেলার চেষ্টা বিজেপির।...

টাকার বিনিময়ে হকারদের জায়গা দেওয়ার অভিযোগ! গাড়ি ফেলে বেপাত্তা কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ

ভিন রাজ্য থেকে গ্রেফতার কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। তোলাবাজির অভিযোগে বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁকে খুঁজছিল...

শনিতে মুখ্যমন্ত্রী-রেলমন্ত্রী বৈঠক, বাংলার আটকে থাকা রেল প্রকল্পগুলি নিয়ে উদ্যোগ কেন্দ্রের

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বাংলার প্রকল্পগুলির অনুমোদন দিচ্ছে না কেন্দ্রে- এই অভিযোগ সবসময়ই করতে বিগত তৃণমূল সরকার। সেই অভিযোগেই...

প্রকল্প অনুমোদনে গতি আনতে সিদ্ধান্ত, দফতরগুলির আর্থিক ক্ষমতা বাড়াল রাজ্য

উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়নের গতি আনতে প্রশাসনিক দফতরগুলির আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করল রাজ্য সরকার (State Goverment)। অর্থ...