Monday, January 12, 2026

মহামারিতে আর্থিক সঙ্কটে প্লাস্টিকের ফুল-মালা তৈরিতে যুক্ত হুগলির ব্যবসায়ী ও কারিগররা

Date:

Share post:

রাত পোহালেই মহালায়া, মাতৃ বন্দনার শুরু । অথচ চোখে ঘুম নেই হুগলির একশ্রেণীর ব্যবসায়ী ও কারিগরের। যারা সারা বছর তাকিয়ে থাকেন পুজোর এই কদিনের জন্য। কারণ, তারা সবাই প্লাস্টিকের ফুলমালা তৈরি করেন। কিন্তু মহামারির দৌলতে, যেখানে পুজো হওয়াটাই দায় হয়ে উঠেছে সেখানে শিকেয় প্লাস্টিকের ফুলমালার ব্যবসা। তাই মনমরা হুগলির কয়েক হাজার কারিগর ও ব্যবসায়ী। কারণ, প্লাস্টিকের ফুল মালা এবারের পুজোয় ব্রাত্যর তালিকায় ।

কিন্তু অন্যান্য বছর ছবিটা থাকে অন্যরকম। বিশ্বকর্মা পুজোর প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই ভোর চারটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করে যান একশ্রেণীর মহিলা কারিগর। লক্ষ্য একটাই দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে তাদের মুখে হাসি ফুটবে। ব্যবসা ভালো হলে পরিবারের আর্থিক সমস্যা কদিনের জন্য কিছুটা হলেও মিটবে। কিন্তু করোনার আবহে এবার সব ওলট-পালট হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি ? সেই প্রশ্ন খুঁজতে গিয়ে উঠে এলো বেশ কিছু তথ্য। কারিগররা নিজেরাই জানিয়েছেন , অন্যান্য বছর বিশ্বকর্মা পুজোয় গাড়ি সাজানোর জন্য, কারখানা সাজানোর জন্য এই প্লাস্টিকের ফুলমালার চাহিদা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু এবছর লকডাউনের জেরে গাড়ি বন্ধ থাকায়, অধিকাংশ কলকারখানা বন্ধ থাকায় সেই ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড়। এরই পাশাপাশি আরও একটি তথ্য তারা দিয়েছেন। এই প্লাস্টিকের ফুলমালা তৈরি করতে এতদিন তারা ব্যবহার করতেন বিভিন্ন চিনা দ্রব্য। কিন্তু লাদাখ পরিস্থিতি তাতে বাধ সেধেছে। চিনা দ্রব্য বর্জনের ফতোয়ায় তারা নির্ভর করেছিলেন দেশীয় দ্রব্যের ওপর। প্রকৃতপক্ষে লকডাউনের জেরে সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোনওভাবেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না ।
এই ব্যবসায়ীদের অধিকাংশই জানিয়েছেন, তারা ঋণ নিয়ে অনেকেই ব্যবসা শুরু করেছেন। কিন্তু সেই ঋণের টাকা এবার কিভাবে পরিশোধ করবেন তা ভাবতেই চক্ষু চড়কগাছ। কারণ হিসেবে তাদের যুক্তি, শুধুমাত্র আমাদের রাজ্যে নয় এই প্লাস্টিকের ফুলমালার চাহিদা দেশের অন্যান্য রাজ্যেও। উৎসবের মরসুমে তা রফতানি করে কিছুটা লাভের মুখ দেখতেন এই ব্যবসায়ীরা। লকডাউন সেই আশাতেও জল ঢেলে দিয়েছে ।

আরও পড়ুন- মস্কোর বৈঠকের আগে লাদাখ সীমান্তে ১০০ থেকে ২০০ রাউন্ড গুলি বিনিময়!
ফলে আর্থিক সঙ্কটের মুখে হুগলি জেলার তারকেশ্বর দশঘড়া এলাকার ব্যবসায়ী ও কারিগররা। বিগত এক দশক ধরে যাদের রুটি-রুজির জোগান দেয় এই প্লাস্টিকের ফুলমালা, তারা এবার রীতিমতো বিপাকে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এই ব্যবসায়ী ও কারিগররা জানিয়েছেন, সরকারি সাহায্য পেলে হয়তো এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন তারা কি করবেন তা ভেবেই দিশেহারা ।

spot_img

Related articles

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...

পদ্ধতির ভুল তুলে ধরে অব্যহতি চেয়েছিলেন AERO, উল্টে শাস্তি দেওয়ার হুমকি কমিশনের!

গোটা রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রায় প্রতিদিন মৃত্যু হচ্ছে বিএলওদের। অথবা অসুস্থ হয়ে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের...