পিনকনকর্তাকে আড়াল? বিচারকের রোষের মুখে জেলকর্তারা

আগামিকাল, শনিবার পিনকন মামলার রায়দান করবেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত (তিন নম্বর) তথা অর্থনৈতিক অপরাধের বিশেষ আদালতের বিচারক মৌ চট্টোপাধ্যায়। তারই প্রাক্কালে জেল হেফাজতে থাকা ভুয়ো অর্থিলগ্নি সংস্থা পিনকনের কর্ণধার মনোরঞ্জন রায় অসুস্থ বলে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের তরফে আদালতে জানানো হল। সঙ্গে দেওয়া হল দুই চিকিৎসকের শংসাপত্রও।
যদিও ক্ষুব্ধ বিচারক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩ অক্টোবর মনোরঞ্জনকে আদালতে হাজির করাতেই হবে। এর অন্যথা হলে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপার-সহ মনোরঞ্জন রায়ের চিকিৎসকদেরও গ্রেফতার করা হবে। শনিবার এই মামলার রায় ঘোষণা হবে।

আরও পড়ুন- কোভিডে আক্রান্ত, মন্ত্রী তাপস রায় মেডিক্যালে ভর্তি
বৃহস্পতিবার আদালতে তার অসুস্থতা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়া হলেও বিচারক ওই নথিতে সন্তুষ্ট হননি।তিনি প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন, যে দুজন চিকিৎসক মনোরঞ্জনের অসুস্থতার শংসাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন তাদের সহ অভিযুক্তকে ৩অক্টোবর আদালতে হাজির করতে হবে। এ প্রসঙ্গে বিচারক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, সুপার আদালতকে না জানিয়েই গত মার্চ থেকে বেসরকারি হাসপাতালে মনোরঞ্জনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। প্রয়োজনে তাকে কোনও সরকারি হাসপাতালে রেখে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা যেত। ওই নির্দেশ অমান্য করলে মনোরঞ্জনকে সাহায্য করার অপরাধে তাঁকেও গ্রেফতার করা হবে বলে বিচারক তার পাঠানো চিঠিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন । এমনকি , যে নার্সিংহোমে পিনকন কর্তা চিকিৎসাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটির সম্পর্কে স্বাস্থ্য ভবনকে দিয়ে তদন্ত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত।
সরকারি আইনজীবী জানিয়েছেন , গত মঙ্গলবার আদালতে হাজিরা এড়াতে পিনকনের ডিরেক্টর মৌসুমী রায়ও ওই একই নার্সিংহোমের চিকিৎসকের দেওয়া অসুস্থতার শংসাপত্র জমা দিয়েছিলেন। দু’টি ঘটনায় সাদৃশ্য দেখে বিচারক মনে করছেন , প্রেসিডেন্সি জেলের সুপারকে পিনকন কর্ণধার প্রভাবিত করেছেন।সরকার পক্ষের বিশেষ আইনজীবী সৌমেনকুমার দত্ত বলেছেন, রায়দান এড়াতে পিনকন কর্ণধার এই নাটক করছেন। আগামী ৩ অক্টোবর শনিবার আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হলে জেল সুপার-সহ প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
সবমিলিয়ে যা পরিস্থিতি, বিচারকের কড়া অবস্থানের জন্য ৩ অক্টোবর আদালতে হাজিরা এড়ানো পিনকনের কর্ণধারেরা পক্ষে কার্যত অসম্ভব । এমনকি পুরো ঘটনায় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অস্বস্তিতে কর্তৃপক্ষ।