বিধিনিষেধ মেনে আজ থেকে খুলল রাজ্যের ১২টি চিড়িয়াখানা, টিকিট মিলবে অনলাইনে

প্রায় সাড়ে ৬ মাস বন্ধ থাকার পর খুলল আলিপুর চিড়িয়াখানা। করোনা আবহে গত ১৭ ই মার্চ থেকে বন্ধ ছিল চিড়িয়াখানার দরজা। নিয়মে অনেক পরিবর্তন এসেছে। দর্শকদের কী কী বিধি মেনে চলতে হবে, কী করা যাবে না, তার বিস্তারিত গাইডলাইন ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

করোনা আবহে আগের নিয়মে অনেক পরিবর্তন এসেছে।  টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকবে। অনলাইনে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে আলিপুর চিড়িয়াখানায়।  বন দফতরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে টিকিট কাটা যাবে। তবে, ১০ বছরের নিচে কোনও শিশুকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।  জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

চিড়িয়াখানার ভিতরে বন্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা। সুতরাং হাতে জলের বোতল রাখতে হবে। বাধ্যতামূলক মুখের মাস্ক। চিড়িয়াখানার মূলফটকে থাকবে থার্মাল স্ক্রিনিং ও স্ট্যানিটাইজার মেশিন। প্রবেশ পথে নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্বের জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থা থাকছে। পশুপাখিদের খাঁচার থেকে রাখতে হবে কাঙ্ক্ষিত দূরত্ব। কোনো ফেনসিং স্পর্শ করা যাবে না। খাঁচার সামনে দশ জনের বেশি কাউকে জমায়েত ও ভিড় করতে দেওয়া হবে না। ছোট খাঁচার সামনে দাঁড়াতে দেওয়া হবে ৫ জনকে। দেখার জন্যও বেঁধে দেওয়া হবে সময়ও। থুতু বা পানের পিক ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবেই মানা হবে।

এদিন সকাল ন’টা নাগাদ খুলেছে চিড়িয়াখানা আর তারপর থেকেই দর্শকরা আসতে শুরু করেছেন। যদিও এদিন বেশি ভিড় হয়নি। এতদিন পশুপাখিদের দেখভাল করার লোক ছাড়া ভিতরে কেউই আসেননি। তাই এতদিন বাদে অচেনা মানুষ দেখে পশুপাখিদের ব্যবহার একটু আলাদা ছিল। প্রথম দিন বলে সিসিটিভির মাধ্যমে চলছিল নজরদারি।

আরও পড়ুন : পুজোর কথা মাথায় রেখে মেট্রোর সময়ে পরিবর্তন, এবার শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ৮টায়

ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জাতীয় উদ্যানগুলি পর্যটকদের জন্য তাদের দরজা খুলে দিয়েছে। শুক্রবার, শুধু আলিপুর নয়, পশ্চিমবঙ্গের মোট ১২টি চিড়িয়াখানার দরজাই খুলে গিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় আলিপুর চিড়িয়াখানা ও দার্জিলিং চিড়িয়াখানা। প্রত্যেক বছর এই সব চিড়িয়াখানায় ৫০ লক্ষেরও বেশি দর্শনার্থী ভিড় করেন।

বন দফতরের এক শীর্ষ কর্তার মতে, সামনেই উৎসবের মরশুম শুরু হচ্ছে। দুর্গাপুজো শুরু হতে এক মাসেরও কম সময় রয়েছে। শীত আসন্ন। এই সব কারণগুলিই বন বিভাগকে পর্যটকদের জন্য চিড়িয়াখানা, অভয়ারণ্য এবং জাতীয় উদ্যানগুলি আবার খুলতে উৎসাহিত করেছে।