আনন্দপুরকাণ্ডে নয়া মোড়, অভিযোগকারিনী তরুণীর বিরুদ্ধেই মামলা রুজু পুলিশের

আনন্দপুরে তরুনীকে মারধরের ঘটনায় এবার অভিযোগকারিনী তরুণীর বিরুদ্ধেই মামলা রুজু করল পুলিশ। শুক্রবার, আলিপুর আদালতে সাত পাতার চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। ১৫০ পাতার চার্জশিটে মূল অভিযোগগুলি আনা হয়েছে প্রথম ৭ পাতার মধ্যে। সূত্রের খবর, চার্জশিটে অভিযুক্তের পাশাপাশি, অভিযোগকারিনীর নামেও একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেছে আলিপুর আদালত।

আরও পড়ুন : কোভিড আক্রান্ত সৌমিত্রর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ডে বাড়ল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংখ্যা

পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২০১ ধারা অর্থাত্‍, পুলিশকে ভুল তথ্য দেওয়া এবং ২১২ ধারা অর্থাত্‍, অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়ার ধারায় মামলা রুজুর আবেদন জানানো হয়েছে। মূল অভিযুক্ত অভিষেক পাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টা, ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানি-সহ ৩২৩, ৩২৫, ৩৩৬, ৩৩৮ ও ২৮৯ ধারা যুক্ত করে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। ৭ পাতার ওই চার্জশিটে ৩২ জনের সাক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যেই তরুণী ও নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায় সহ মোট ৪ জনের গোপন জবানবন্দী নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, পরিচয় জেনেও অভিযুক্ত সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন অভিযোগকারিণী। অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ, এমনকী বিয়ের হওয়ার কথা থাকলেও, সেকথা তিনি পুলিশকে জানাননি। এমনকী, অভিযুক্তের আসল নাম গোপন করে বলেছিলেন অমিতাভ বসু। এমনকী, তিনি পুলিশকে কী কী তথ্য দিয়েছেন, তাও অভিযুক্তকে জানিয়েছিলেন অভিযোগকারিণী।

প্রসঙ্গত, গত ৫ই সেপ্টেম্বর রুবি হাসপাতালে পিছন দিকের রাস্তায় এক তরুণীকে চলন্ত গাড়িতে মারধর করে, ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সেই অবস্থায় ওই তরুণীকে বাঁচাতে আসেন নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী দীপ শতপথী। তরুণীকে উদ্ধার করতে এলে উল্টে নীলাঞ্জনা দেবীকেই ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে অভিযুক্ত অভিষেক পান্ডে। তাঁর পায়ের ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা চলে যায়। ঘটনায় গুরুতর জখম হন নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়। তার পায়ের হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন হাসপাতালে থাকার পর বাড়ি ফেরেন তিনি।