পাগড়ি নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও সম্প্রদায়কে আঘাত করেনি পুলিশ: অধীর

পাগড়িকাণ্ডে এ রাজ্যের পুলিশের পাশে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বিশ্বাস করেন, এই বাংলা, এই শহর কোনও ধর্মীয় কোনও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয় না। এ রাজ্যের পুলিশের অনেক কিছু খারাপ আছে, কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও শিখ সম্প্রদায়ের যুবকের মাথা থেকে পাগড়ি খুলে নেবে পুলিশ, এটাও তিনি বিশ্বাস করেন না। ধস্তাধস্তির মাঝেই ওই শিখ যুবকের পাগড়ি কোনওভাবে খুলে যেতে পারে বলেই মনে করেন তিনি। তার মানে এটাও নয়, এ রাজ্যের পুলিশের কোনও ভুল নেই, তারা বিভিন্ন সময়ে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলকে খুশি রাখতে চায়, এমনটাই দাবি করেন বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ।

বিজেপি যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানের দিন হাওড়া সিটি পুলিশ বলবিন্দর সিং নামের ভিন রাজ্যের এক শিখ যুবকের কাছ থেকে বেআইনি পিস্তল উদ্ধার করে। তাকে গ্রেফতার করা হয়। সেদিনের একটি ছবিতে দেখা যায় ওই শিখ যুবককে যখন পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে, তখন তার মাথায় পাগড়ি ছিল না। এরপরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়। গোটা দেশজুড়ে অনেকেই এই ঘটনার অনেকেই নিন্দা করেন। ক্রিকেটার হরভজন সিং থেকে শুরু করে কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং-সহ অনরকেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

তবে পাগড়িকাণ্ডে কিছুটা উল্টো সুর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর গলায়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কলকাতা বা রাজ্যের পুলিশ পরিকল্পনা করে কোনও শিখের পাগড়ি খুলে দিয়ে তাঁকে অপমান করবে, এটা আমি বিশ্বাস করিনা। পুলিশের সঙ্গে আমাদের অনেক বিবাদ আছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি বলতে পারি,এই কলকাতার বুকে শিখ দাঙ্গার সময় ওই সম্প্রদায়ের মানুষের উপর একটা আঁচড়ও পরেনি এই শহরে, শুধুমাত্র কলকাতা পুলিশের জন্য। এটাই কলকাতার ঐতিহ্য, কলকাতার সংস্কৃতি। তবে পুলিশের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব আছে।”

কংগ্রেস শাসিত পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। এ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীরবাবু বলেন, ” শিখ ও পঞ্জাবিদের আবেগের কথা বলতে চেয়েছেন অমরিন্দর সিং। সেটা সম্পূর্ণ আলাদা একটা প্রেক্ষিত। তিনি আসলে বলতে চেয়েছেন, শিখরা পাগড়িকে ধর্মীয়ভাবে দেখে। সেটা তাদের সেন্টিমেন্ট। আপনিও এই বিষয়টিকে একটু দেখুন। এই বিজেপি এই ঘটনার রাজনৈতিক সুযোগ নিতে চাইছে। এই সুযোগে এ রাজ্যে শিখদের ভোট নিজেদের অনুকূলে টানার চেষ্টা করছে বিজেপি।”

আরও পড়ুন- বিশ্ববাংলা শারদ সম্মান ২০২০: নয়া চমক ”সেরা কোভিড সচেতন পুজো”