জমি বিবাদ নিয়ে পুড়িয়ে মারা হল পুরোহিতকে, নাম উল্লেখ করলেন দুষ্কৃতীদের

নৃশংস!

মন্দিরের সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জের। গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারা হল পুরোহিতকে। মৃত্য়ুর আগে পুলিশের কাছে ৬ জনের নাম উল্লেখ করেন বাবুলাল বৈষ্ণব।

ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের করৌলি জেলার বুকনা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরে পুজো করতেন বাবুলাল বৈষ্ণব নামের ওই পুরোহিত। তিনি যাতে নিয়মিত ওই মন্দিরে পুজো চালিয়ে যান, তার জন্য তাঁকে মন্দিরের কেয়ারটেকার পুরোহিত নিযুক্ত করে রাধাকৃষ্ণ মন্দির ট্রাস্ট। তবে শুধু পুজো করে পেট চালানো যায় না। তাই মন্দিরের সম্পত্তি থেকে ১৩ বিঘা জমি পুরোহিত বাবুলাল বৈষ্ণবকে দেওয়া হয় চাষবাসের জন্য। মন্দির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সেবায়েত পুরোহিতদের জমি দেওয়ার এই প্রথা বহুকাল ধরেই চলে আসছে। আর এই জমি নিয়েই বিবাদের জের। চাষের সুবিধার জন্য ওই জমি সংলগ্ন অল্প জায়গায় বাড়ি তৈরি করতে উদ্যত হন ওই পুরোহিত। মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া ১৩ বিঘা জমির মাঝখানে একটি উঁচু ঢিবি ছিল। মাটি সমান করতে সেই ঢিবি ভেঙে ফেলেন তিনি। আর তাতেই রুখে দাঁড়ান এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মীনা সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ। যে জমিতে বাবুলাল বাড়ি তৈরি করতে উদ্যত হয়েছেন, সেই জমি তাঁদের জমি বলে দাবি করেন। গ্রামের মোড়লদের কাছে বিষয়টি পৌঁছলে তাঁরা পুরোহিতের পক্ষেই মত দেন।

আরও পড়ুন- হাথরাসকাণ্ড: ফের রাজপথে প্রতিবাদ মিছিল তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের

তার পরেও মীনা সম্প্রদায়ের লোকেরা মিলে ওই জমিতে নিজেদের একটি কুঁড়েঘর তৈরি করতে শুরু করেন বলে অভিযোগ। আর তাতে বাধা দিতে গেলে বাবুলালের সঙ্গে বেধে যায় বচসা। সেইসময় সেখানে জমা করা বাজরার গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। কেরোসিন ঢেলে তাঁর গায়েও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান বাবুলাল। পরে তাঁকে জয়পুরের এসএমএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বাবুলালকে। বৃহস্পতিবার সন্ধেয় মৃত্যু হয় তাঁর।

আরও পড়ুন- ঘাটালের সভা থেকে শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়লেন লকেট

করৌলির পুলিশ আধিকারিক হার্জিলাল যাদব জানিয়েছেন, মৃত্য়ুর আগে পুলিশের কাছে ৬ জনের নাম উল্লেখ করেন বাবুলাল বৈষ্ণব। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মীনা নামের একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে খুনের মামলা।

আরও পড়ুন- পাগড়ি নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও সম্প্রদায়কে আঘাত করেনি পুলিশ: অধীর