ডানা ছেঁটে, যৌথ দায়িত্ব দিয়ে দিলীপকে কার্যত ‘সবক’ শেখাল দলীয় নেতৃত্ব

ডানা ছেঁটে, ক্ষমতা খর্ব করে হুগলি তৃণমূল জেলা সভাপতি দিলীপ যাদবকে কার্যত ‘সবক’ শেখালেন তৃণমূল কংগ্রেস যুব সভাপতি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ছিল একের পর এক অভিযোগ। গোষ্ঠীবাজি, দলবাজি, নেতৃত্বকে অবহেলা করা, বৈঠকে না ডাকা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে জেলার সব বিধায়ক-মন্ত্রী প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন। তারপরই বুধবার সকলকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন অভিষেক। সমস্যা এবং অভিযোগের গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে হুগলি জেলার জন্য করে দিলেন কোর কমিটি। ৮জনের কমিটি। কমিটিতে থাকছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল, বিধায়ক-মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত, মন্ত্রী-বিধায়ক অসীমা পাত্র, বিধায়ক বেচারাম মান্না, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সাংসদ অপরূপা পোদ্দার এবং দিলীপ যাদব।

এই কমিটি করে দলীয় নেতৃত্ব কার্যত বুঝিয়ে দিলেন দিলীপের উপর দলের অনাস্থার বিষয়টি। শুধু তাই নয়, জেলা সভাপতিকে পদে রেখেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হলো। অর্থাৎ সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মান্যতাও কার্যত দেওয়া হলো। ফলে দলের দায়িত্বে থেকেও দলে একঘরে হয়ে গেলেন জেলা সভাপতি। এদিন মূলত দল পরিচালনা নিয়ে ক্ষোভ প্রশমনের বৈঠক হয়। কিন্তু উত্তরপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন কী করে গঙ্গার পার একের পর এক সংস্থার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হলো, সে নিয়ে প্রশ্নও উচ্চ নেতৃত্বের কাছে রয়েছে। ভবিষ্যতে সেই বিষয়টি নিয়েও দিলীপকে যে মহা-মুশকিলে পড়তে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

দলের এই কমিটি কর্মসূচি ঠিক করবে। একক সিদ্ধান্ত কেউই নিতে পারবেন না। নিতে সকলের মত চাই। উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল জানিয়েছেন, আগামী শনিবারই কমিটি প্রথম বৈঠকে বসবে। দেখার বিষয় এই মহা রদবদলে হুগলি তৃণমূলে শ্রী ফেরে কিনা!

আরও পড়ুন- নবান্ন চলোয় পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে মানিবাধিকার কমিশনে স্বপন