বন্যা বিধ্বস্ত তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৪৫

তুমুল বর্ষণের জেরে বিপর্যস্ত তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ। গত ৪ দিনের ব্যাপক বৃষ্টিতে বানভাসি দুই রাজ্য। তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্র মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৫। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে মানুষ, দোকানপাট। দক্ষিণের দুই রাজ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। তুমুল বৃষ্টির জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। যত্রতত্র পড়ে রয়েছে বিদ্যুতের তার।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বৃষ্টি এবং বন্যার জেরে তেলঙ্গানায় মৃতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। হায়দরাবাদে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। মৃতদের মধ্যে ১৯ দিনের শিশুও আছে। রাতভর বৃষ্টিতে মঙ্গলবার রাতেই হায়দরাবাদের বান্দলাগুডা এলাকার একটি বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ৩টি শিশু সহ ৯ জনের। বন্যার জলে ভাসছে হায়দরাবাদের বারকাস পাহাড়ি এলাকা। ওই অঞ্চলের এক ব্যক্তিকে বুধবারই জলের স্রোতে ভেসে যেতে দেখা গিয়েছিল। তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন স্থানীয়রা।টায়ার ছুড়ে দেওয়া হলে সেটিও ভেসে যায় জলের স্রোতে। কিন্তু শেষমেষ বাঁচানো যায়নি ওই ব্যক্তিকে। অন্যদিকে বারকাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৯ বছরের এক ব্যক্তির। বন্যা বিপর্যস্ত বারকাসে নিখোঁজ ৫ জন। তাঁদের খোঁজ শুরু করেছে প্রশাসন।

জানা গিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেন্দ্রীয় সরকার ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের জন্য দুই রাজ্যকে সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে। এদিকে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আরও কয়েকদিন বৃষ্টি হবে তেলঙ্গানায়। এরপরে ঘূর্ণাবর্ত ধীরে ধীরে মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের দিকে সরে যাবে। ইতিমধ্যে বান্দালগুডায় নামানো হয়েছে সেনা। হায়দরাবাদ ও রঙ্গরেড্ডি থেকে এখনও অবধি হাজারের বেশিজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে তেলঙ্গানার মুখ্যসচিব সোমেশ কুমার বলেন, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ হচ্ছে। রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল এই কাজ করছে।

আরও পড়ুন:প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে হায়দরাবাদ,অন্ধপ্রদেশে হাই এলার্ট জারি : মৃত ১২