Thursday, April 2, 2026

জোড়া বাছুর উৎপাদনে সাফল্য ; প্রযুক্তি শিঘ্রই মাঠপর্যায়ে যাবে

Date:

Share post:

সাধারণত একটি গাভি বছরে একটি বাছুরের জন্ম দেয়। তবে ভ্রূণ স্থাপন প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি গাভির গর্ভ থেকে জোড়া বাছুর উৎপাদনে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট। ইনভারটো অ্যামব্রায়ো প্রডাকশন বা আইভিপি প্রযুক্তিটি অচিরেই বৃহত্তর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আশা করছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার জানান, “জোড়া গরু উৎপাদনে গত বছর আমরা সাফল্য পেয়েছি। এটা গবেষণার বিষয়। এর অগ্রগতি আছে। তবে এটা নিশ্চিত যে আমরা জোড়া বাছুর জন্মানোর প্রযুক্তি আরও বড় পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছি।”

আরও পড়ুন : ২৪ ঘন্টায় বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত মাত্র ১০৯৪, বাড়ছে সুস্থতার হার

দুই বছর আগে আইভিপি প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি গাভি থেকে দুটি বাছুর জন্মানোতে সফল হন গবেষকরা। এরপর গতবছর আরও একটি গাভি থেকে জোড়া বাছুরের জন্ম দেওয়া হয়।

মাঠপর্যায়ে ভ্রূণ স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জামের স্বল্পতা ছিল; তবে এখন তাও কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে জানিয়েছেন এক গবেষক।ইনস্টিটিউটের নিজস্ব তহবিল থেকে গবেষণার খরচ মেটানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকদলের প্রধান ড. গৌতম কুমার দেব। চার বছরের টানা গবেষণার ফলে তারা এই সাফল্য অর্জন করেছেন।

আরও পড়ুন : করোনা ভ্যাকসিনের লক্ষাধিক ডোজ বিনামূল্যে ঢাকাকে দেবে বেজিং!

কবে নাগাদ এই প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন “ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আগামী বছরের প্রথমদিকে আমরা কয়েকজন খামারির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে যাব। চলতি বছর যাওয়ার কথা ছিল। তবে আমরা অনেকগুলো গবেষণা একসাথে করি, জোড়া বাছুর জন্ম দেওয়ার ব্যপারটাও আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। অনেক ছোট ছোট যন্ত্রপাতি আছে যা বিদেশ থেকে আনতে হয়, সেগুলো আনার চেষ্টা করছি। ”

আইভিপি প্রযুক্তিতে জন্মানো বাছুরগুলো বর্তমানে পরিণত বয়সে পৌঁছেছে। ড. গৌতম কুমার দেব বলেন, “এদের এখন বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সময় চলে এসেছে। তবে এদের মধ্যে ভ্রূণ স্থাপন করা হয়নি।”

গবেষক গৌতম কুমার দেব বলেন, “এ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের জন্য দাতা গাভি থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ এবং ভ্রুণ ক্রায়োপ্রিজারভেশন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন হবে কোনো দুধেল গাই বা উচ্চ উৎপাদনশীল জাতের গাভি। আমরা প্রথমে ওই গাভি থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করব। সেই ডিম্বাণু ল্যাবে পরিপক্ব, নিষিক্তকরণ এবং কালচার শেষে তা ভ্রূণে পরিণত করা হয়।
“সাতদিন ল্যাবে থাকার পর অপেক্ষাকৃত দুর্বল বা দুধ কম দেয় এমন গাভির জরায়ুতে তা স্থাপন করা হয়। এভাবে নির্ধারিত সময়ে ভ্রূণ বেড়ে ওঠে। কম-বেশি ১০ মাসের মধ্যে সেই গাভি থেকে দুটি বাছুর পাওয়া যায়।”

Related articles

নতুন করে যুদ্ধের মেঘ: প্রস্তুতিতে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে নাজেহাল মোদি সরকার। এই পরিস্থিতিতে হয়রানি শুধুই সাধারণ মানুষের। দেশের অর্থনৈতিক...

ভোটার তালিকা থেকে বাদ: বিক্ষোভের জেরে কালিয়াচকে আটকে ৭ বিচারবিভাগীয় আধিকারিক

রাজ্যে এসআইআর-এর অ্যাডজুডিকেশন মামলাগুলির নিষ্পত্তি শুরু হতেই প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। যার জেরে রাজ্যের উত্তর...

IPL: পিচ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট নায়ারের, পাথিরানাকে নিয়েও দিলেন বড় আপডেট

চলতি মরশুমের আইপিএলেরর (IPL) শুরুটা একে বারেই ভালো হয়নি কেকেআরের(KKR) ।ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচেই জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া...

প্রথম ম্যাচে ব্রাত্য, লখনউ জার্সিতে নিজেকে প্রমাণ করতে চান সচিন পুত্র

আইপিএলের মঞ্চে  নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন সচিন পুত্র অর্জুন তেন্ডুলকর(Arjun Tendulkar)। দীর্ঘ ৫ বছর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে...