ফিরহাদ হাকিমকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে লড়াই জারি রাখলেন বৈশাখী

অধ্যাপনার চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এবার ফিরহাদ হাকিমকে (minister Firhad hakim) আইনি নোটিশ ধরালেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের (shovon chatterjee) বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় (Baishakhi banerjee)। নোটিশে বৈশাখীর দাবি, তাঁর সম্পর্কে রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতা পুরসভার প্রশাসক যে মন্তব্য করেছেন, তা অপমানজনক। তাই তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে। নোটিশ গিয়েছে আমিরুদ্দিন ববির কাছেও।

কী বলেছিলেন ফিরহাদ? বৈশাখী যে কলেজে অধ্যাপনা করতেন, সেই মিল্লি আল আমিন (milli al amin college) কলেজের পড়ুয়াদের সমস্যা মেটাতে ফিরহাদ কলেজে গিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে ঘুরতে থাকে। যে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘এখন বিশ্ববাংলা সংবাদ’। যেখানে ফিরহাদকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ বৈশাখী কো উখাড় কে ফেক দো।’ বৈশাখীর দাবি, যে ভাষায় তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে অপমানজনক। একজন মহিলাকে নিয়ে এমন মন্তব্য রুচি-বিরুদ্ধ। সম্মান নিয়ে বাঁচা যে কোনও মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটাই এক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয়েছে। বিষয়টি শুধু কলেজের মধ্যে আটকে নেই। ওই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাই ফিরহাদকে ক্ষমা চাইতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে তিনি আদালতে যেতে বাধ্য হবেন।

মিল্লি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলাতেন বৈশাখী। বারবার সে নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। কখনও পরিচালন কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে গিয়েছে। কখনও তিনি অভিযোগ জানাতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দরবার করেছেন। অন্যদিকে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি এবং শোভন। আর সমস্যাও বাড়তে থাকে। এরপর পড়ুয়া সমস্যা মেটাতে ফিরহাদ হাকিম কলেজে গিয়ে ওই মন্তব্য করলে তিনি ও শোভন রাজ্যপালের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসেন। আর তার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বৈশাখীকে রামমোহন কলেজে (Rammohon college) বদলি করা হয়। অপমানিত বৈশাখী এরপর অধ্যাপনার চাকরি থেকেই ইস্তফা দিয়ে ইস্তফাপত্র পাঠান রাজ্যপাল (governor), মুখ্যমন্ত্রী (chief minister mamata banerjee), শিক্ষামন্ত্রী ( education minister partha chatterjee) ও উচ্চশিক্ষা দফতরে।

কিন্তু ফিরহাদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে তিনি যুদ্ধ অব্যাহত রাখলেন। দেখার বিষয় ফিরহাদ হাকিম কী জবাব দেন।

আরও পড়ুন- একে অপরের “প্রতিদ্বন্দ্বী” শাশ্বত ও রুদ্রনীল ! কী করলেন পরিচালক সপ্তস্ব বসু?