কাফিলের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা নয়, আদালতে মুখ পুড়ল যোগী সরকারের

দেশদ্রোহীতার মামলায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তরপ্রদেশের(Uttar Pradesh) চিকিৎসক কাফিল খানকে জেলবন্দি করে রেখেছিল যোগী সরকার(Yogi government)। দীর্ঘ বন্দীদশার পর হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তি পান তিনি। আদালতের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় কাফিল খানের(Kafeel Khan) বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার(NSA) ধারায় মামলা করা যাবে না। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে গিয়েছিল যোগী সরকার। তবে সেখানেও মুখ পুড়ল সরকার পক্ষের।

বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের(Supreme Court) প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে স্পষ্টতই জানিয়ে দেন, ‘যে কোনও ফৌজদারি মামলার বিচার হয় সেই মামলার নিজস্ব গুরুত্ব অনুযায়ী। অন্য একটি মামলা করে কোনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আটক আইন কখনই প্রয়োগ করা যায় না। এই মামলায় হাইকোর্টের রায়ই সঠিক।’ স্বাভাবিকভাবেই আদালতের এই নির্দেশ আসার পর খুশি চিকিৎসক কাফিল খান। এদিন টুইট করে তিনি লেখেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে আমাকে আটকে রাখা বেআইনি বলে ঘোষণা করেছিল হাইকোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কিন্তু তাঁদের সেই পিটিশান খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। অবশেষে বিচার পেলাম। দেশে বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

সিএএ-বিরোধী একটি ভাষণের জন্য কাফিল খানের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। তবে এই মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে যায় যোগী সরকার। সেখানেই এবার মুখ পুড়ল। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গোরক্ষপুর মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় প্রথম শিরোনামে আসেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কাফিল খান। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার জোগাড় করে বহু শিশুর প্রাণ তিনি বাঁচিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে সিলিন্ডারের ঘাটতির জন্য কাফিল খানকেই দোষী করে তাকে গ্রেফতার করে যোগীর পুলিশ। প্রায় দু বছর পর সেই মামলায় নির্দোষ প্রমাণ হন তিনি। এরপর সিএএ নিয়ে বক্তব্য রাখার জেরে ফের তাকে গ্রেফতার করে যোগী সরকার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা। তবে এদিন শীর্ষ আদালতের নির্দেশ দেশবাসীকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল সরকারের ষড়যন্ত্রকারী দৃষ্টিভঙ্গি।

আরও পড়ুন- মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে রাজ্য, শীর্ষ আদালতে একঝাঁক বিজেপি নেতা