Wednesday, June 3, 2026

মুখে কালি মেখেই বিদায় ট্রাম্পের, প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসাবে দ্বিতীয়বার ‘ইমপিচড’

Date:

Share post:

এমনিতেই প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর আয়ু ছিলো আর মাত্র এক সপ্তাহ৷ সাতদিন পরে তাঁকে ছাড়তেই হবে হোয়াইট হাউস৷

অথচ নিজের কুকীর্তির জেরে মেয়াদ শেষের আগেই দ্বিতীয়বারের জন্যে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ইমপিচমেন্টের মুখোমুখি হন ডোনাল্ড ট্রাম্প ( Donald Trump) এবং নজিরবিহীন ভাবে মার্কিন ইতিহাসে ট্রাম্প-ই হয়ে গেলেন প্রথম প্রেসিডেন্ট, যাকে দ্বিতীয়বার ইমপিচড (Impeached) করলো হাউস। ক্যাপিটল হামলার জেরেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যদের। এবং ট্রাম্পের পক্ষে এতটাই লজ্জার যে তাঁর নিজের দল, রিপাবলিকানের ১০ জন সদস্যও ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের প্রস্তাবের পক্ষেই ভোট দেন।
বিদায়বেলায় কলঙ্কিত হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আপাতত যাবতীয় নজর সেনেটের দিকে। হাউসের প্রস্তাব কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে পাঠানোর পর সেখানে ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্টের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সেনেটরের ভোট পড়তে হবে। তাহলে ইমপিচড হবেন ট্রাম্প। তবে হাতে আর মাত্র সাতদিন থাকায় ট্রাম্প যে মেয়াদ শেষের আগে ক্ষমতাচ্যুত হবেন না, তা প্রায় নিশ্চিত। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ট্রায়াল চলবে। রিপাবলিকান সেনেট নেতার মিচ ম্যাককোনেলের কার্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের ট্রায়াল শুরু হবে। তার পরেরদিনই ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের যে প্রস্তাব আনা হয়েছে, তাতে ট্রাম্পকে ভবিষ্যতে কখনও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে দেওয়ারও সওয়াল করা হয়েছে।
গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলায় সমর্থকদের উস্কানি দেওয়ার জন্যই ট্রাম্পকে ইমপিচড করলেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের প্রতিনিধিরা। আমেরিকার সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনও প্রেসিডেন্ট দু-দু’বার ইমপিচড হলেন। প্রথমবার ট্রাম্প ইমপিচড হয়েছিলেন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তির জন্য৷

ক্যাপিটলের বাইরে ও ভিতরে জাতীয় সুরক্ষা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ২৩২-১৯৭ ভোটে পাশ হয়ে যায় ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব৷ প্রথমবার যখন ইমপিচড হয়েছিলেন, তখন তাঁর দল রিপাবলিকানের সদস্যরা ইমপিচমেন্টের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার ‘বিদ্রোহে প্ররোচনা’-র অভিযোগে ডেমোক্র্যাটরা যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তাতে ভোট দিয়েছেন ১০ রিপাবলিকান প্রতিনিধিও।
ইমপিচমেন্টের বিতর্ক শুরুর আগে আব্রাহাম লিঙ্কন এবং বাইবেলকে উদ্ধৃত করে সংবিধানের রক্ষার জন্য সমস্ত আইনপ্রণেতারা যে শপথ নিয়েছিলেন, তা মেনে কাজ করার আর্জি জানান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
স্পিকার বলেন, “ট্রাম্পের এখনই যাওয়া উচিত৷ আমরা যে দেশকে ভালোবাসি, সেই দেশের পক্ষে বিপজ্জনক উনি।”
বুধবার ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া যখন চলছিল, তখন হোয়াইট হাউসে ছিলেন ট্রাম্প। চোখ রেখেছিলেন টিভিতে। হিংসার কোনও দায়ভার না নিয়ে একটি বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, হোয়াইট হাউসে জো বাইডেনের প্রবেশ ব্যাহত করতে ‘কোনও হিংসা, কোনও আইনভঙ্গ এবং কোনওরকম হাঙ্গামা’ যেন না করা হয়। যদিও এফবিআইয়ের আশঙ্কা, আগামিদিনে আরও হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Related articles

১৮ বছর পর হাতে এল অফার লেটার! অবসরের বয়স পেরিয়ে মজিদ পেলেন ‘হতাশার’ চিঠি

সরকারি চাকরির স্বপ্ন বুনেছিলেন দুই দশক আগে। পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় জায়গাও করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের চিঠি...

ফর্ম জমার আগেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! কারা পেলেন সুবিধা? তালিকা নিয়ে কাঠগড়ায় বিজেপি

অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা থেকেই স্বচ্ছতার সওয়াল করে এসেছে নতুন বিজেপি সরকার। ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে...

এবিভিপির চক্রান্তে মিথ্যা মামলায় ধৃত ছাত্রনেতা! শোকে হৃদরোগে মৃত্যু বাবার

ছেলের গ্রেফতারির ধাক্কা সহ্য করতে পারলেন না বাবা। মিথ্যা মামলায় পুলিশের হাতে ছেলের বন্দি হওয়ার খবর শুনেই হৃদরোগে...

‘হাজার হাজার হকারের পেটে লাথি মারা হয়েছে’, অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধর্মতলায় সরব মমতা

পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা তৃণমূলের নীতি নয়। আমরা সব সময় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমস্যার সমাধান করেছি।...