‘এমন শিক্ষা এবার পাবে, গঙ্গার এপারে আর আসবে না তৃণমূল’, ঝাড়গ্রামে হুংকার দিলীপ- শুভেন্দুর

“একুশের ভোটে তৃণমূলকে এমনভাবে হারাতে হবে যাতে ওরা ভবিষ্যতে ঝাড়গ্রামে ঢোকার সাহস না দেখাতে পারে। এমন শিক্ষা দিতে হবে, গঙ্গার এপারে যেন তৃণমূল আর আসতে না পারে”।

একুশের বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ এখনও অজানা, কিন্তু জোরকদমে ভোটপ্রচারে নেমে পড়েছে বিজেপি (BJP)৷ বুধবার ঝাড়গ্রামের (Jhargram) জামদা সার্কাস ময়দানে বিজেপি’র কৃষক সুরক্ষা অভিযান ও মহাযোগদান মেলার (Mass Meeting) মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) এবং শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary) হুংকারের সুরেই এ কথা বলেছেন৷ একইসঙ্গে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে ২০০ আসন নিয়ে বিজেপি’ই সরকার গড়বে। আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেছেন, ঝাড়গ্রামের ৪টি আসনই দখল করবে বিজেপি৷

এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন:

◾পশ্চিমবাংলার পরিবর্তনের জন্য কেউ ব্রাত্য নয়। সবাই আসুন, সবাই মিলে লড়বো, সোনার বাংলা গড়বো। বিজেপির হৃদয় বড়, সবাইকে গ্রহণ করবো। বিজেপিতে এলে সবাই মর্যাদার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন৷

◾মোদিজি কৃষকদের জন্য ভাবেন। কৃষকরা মোদিজিকে বাহবা দেন। যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁরা ভুয়ো।
◾পশ্চিমবঙ্গে ২০০ আসন নিয়ে আমরা বিজেপির সরকার গড়বো। ঝাড়গ্রামের ৪ আসন থেকেই বিজেপিকে বিধানসভায় পাঠাতে হবে।
◾ভয় দেখাবেন না, আমরা কেসের মালা নিয়ে ঘুরছি। আমরা পুলিসকে ভয় পাইনি।
◾তৃণমূল বাংলার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সব অধিকার ফেরত পেতে এবার আপনাদের পদ্মফুলকে ভোট দিতে হবে।
◾তৃণমূল কোনও ভদ্রলোকের পার্টি নয়। যাঁরা ভদ্রলোক ছিলেন তাঁরা চলে এসেছেন, আরও আসবেন৷

আরও পড়ুন:বাজেটের দিন সংসদ অভিযান, সিদ্ধান্ত কৃষক নেতাদের

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এদিনই প্রথমবার ঝাড়গ্রামে সভা করলেন শুভেন্দু৷ ঝাড়গ্রামে পা রেখে নাম না করে ছত্রধর মাহাতোর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন শুভেন্দু বলেন, “এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের যিনি মুখ, তিনি দেশদ্রোহিতার অপরাধে ১০ বছর জেলে ছিলেন। ওই লোকটি জোর করে আপনাদের মিছিলে হাঁটাতো। ঝাড়গ্রাম শহরকে টানা ৩৭ দিন বন্ধ রেখেছিল। ছত্রধরের বিরুদ্ধে ‘গুছিয়ে নেওয়ার’ অভিযোগ এনে শুভেন্দু বলেন, “ঘরে সাবমারর্সিবল পাম্প বসিয়েছে সরকারি টাকায়। দোতলা পাকা বাড়ি করেছে সরকারি টাকায়। একটা ছেলেকে পুলিশের ইনফরমারের কাজে ঢুকিয়েছে। আরেকটাকে দিয়েছিল আমার ঘাড়ে। লালগড়ের বিদ্যাসাগর ব্যাঙ্কে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসাবে ঢুকিয়ে রাখতে হয়েছে নবান্নের নির্দেশে। এইসব বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আর কোনও সুযোগ দেবেন না”।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

◾আমি তৃণমূলের জন্য যা পরিশ্রম করেছি, এবার তার চেয়েও বেশি পরিশ্রম করবো।
◾ঝাড়গ্রামকে মোদিজি আর বিজেপির হাতে তুলে দিতেই হবে।

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং সাংসদ কুণার হেমব্রম৷ তৃণমূল ও অন্যান্য দল থেকে বহু মানুষ এদিন বিজেপিতে যোগ দেন৷ এদের মধ্যে তৃণমূলের একাধিক পঞ্চায়েত সদস্যও আছেন৷

Advt