গ্রিন করিডর করে মুমূর্ষুর প্রাণ বাঁচাল কলকাতা পুলিশ, ফের শিরোনামে ওসি সৌভিক

রাস্তার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। আর তাতেই জীবন বিপন্ন হয়ে ওঠে অনেকের। সম্প্রতি গ্রিন করিডরের (Green Corridor) মাধ্যমে এমনই সদ্য প্রসূতি বা রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। সেখানে একটি নাম বারবার উঠে আসছে তা হল তিলজলা ট্রাফিক গার্ডের ওসি সৌভিক চক্রবর্তী (Souvik Chakraborty)। এবারের ঘটনায় তিনি পাশে পেয়েছেন সার্জেন্ট রথীন লায়েককে (Rathin Layek)। শনিবার, ই এম বাইপাসে সায়েন্স সিটির কাছে ডিউটিতে (Duty) ছিলেন ওসি সৌভিক চক্রবর্তী এবং সার্জেন্ট রথীন লায়েক। সন্ধে সাড়ে সাতটা আচমকা একটি মিনিবাস (Mini Bus) থেকে যাত্রীদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পান তাঁরা। দেখা যায়, বাসটির ভিতরে মাঝ বয়সী এক ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। তাঁর নাক- মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পরিস্থিতি সংকটজনক বুঝে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার বা রোগীকে বাস থেকে নামিয়ে অন্য গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেননি ওসি। সৌভিক চক্রবর্তী দ্রুত যোগাযোগ করেন ট্র্যাফিক কন্ট্রোল রুমে। ব্যবস্থা করা হয় ‘গ্রিন করিডর’-এর। তিনি নিজে ও রথীন যাত্রী সহ বাসটিকে এসকর্ট করে মাত্র ছ’মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে যান। অসুস্থ ওই ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। আপাতত তিনি চিকিৎসাধীন।

তিলজলা ট্রাফিক গার্ডের তরফে ওই ব্যক্তির নাম ও বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করা হয়। জানা যায়, তাঁর নাম জামিল আখতার (Jamil Akhtar), উত্তর পঞ্চান্নগ্রামের বাসিন্দা। খবর দেওয়া হয় তাঁর পরিজনদের । বাড়ির লোক হাসপাতালে না পৌঁছান পর্যন্ত ওই রোগীর পাশে ছিল তিলজলা ট্রাফিক গার্ডের পুলিশ।

এর আগেও সদ্য প্রসূতিকে শিশু-সহ গ্রিন করিডরের মাধ্যমে হাসপাতালে পৌঁছেছেন সৌভিক চক্রবর্তী। পথের মধ্যে বিকল হয়ে যাওয়া অ্যাম্বুল্যান্স সারিয়ে সহকর্মীর মাধ্যমে আরেক রোগীকে সৌভিক পৌঁছে দেন হাসপাতালে (Hospital)। সেই তালিকায় আরও একটি নাম এবার যোগ হল। কলকাতা পুলিশের দায়িত্বশীল আধিকারিক-কর্মীদের জন্যই শহরের মানুষের বিশ্বাস পুলিশের ওপর মজবুত হয় বলে মত প্রাক্তন পুলিশকর্তাদের।

Advt