৫ টাকায় ডিম–ভাত, আজ থেকেই চালু কল্পতরু মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প ‘‘‌মায়ের রান্নাঘর’’

করোনা (Corona) মহামারির (Pandemic) জেরে দীর্ঘ লকডাউনের (Lockdown) জের থেকে এখনও পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি আমজনতা। ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। অনেকের ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। মানুষের হাতে টাকা নেই। কেন্দ্রীয় বাজেটও মধ্যবিত্তকে হতাশ করেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজ্য বাজেটে “কল্পতরু” ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (CM) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee)। এবার চালু হচ্ছে জনদরদী মুখ্যমন্ত্রীর নয়া প্রকল্প “মাদার কিচেন” বা “মায়ের রান্নাঘর” (Mother Kitchen)। আজ, সোমবার থেকেই যেখানে মিলতে চলেছে মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে ডিম-ভাত (Egg Rice)। সঙ্গে ডাল-সবজি। সোমবার থেকে আপাতত কলকাতায় আর পরে সারা বাংলায় এই দামেই মিলবে পেটপুরে খাবার।

কলকাতা পুরসভার প্রতিটি বরোয় চালু করা হচ্ছে এই কমিউনিটি কিচেন। সেখানে ৫ টাকায় ডিম–ভাত মিলবে। আর তাতে থাকবে ২০০ গ্রাম চালের ভাত, সবজি, ডাল এবং একটি করে ডিম। দুপুর ১টা থেকে ২টো পর্যন্ত দেওয়া হবে খাবার। প্রথমে ১৬টি বরোতে এই মা কিচেন চালু হবে। তার পর ধাপে ধাপে এই কমিউনিটি কিচেন চালু হবে কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ডে। প্রথম পর্যায়ে যে ‘‌মা কিচেন’‌গুলি চালু হচ্ছে সেখানে প্রতিদিন পাঁচশো থেকে হাজার জনের রান্না করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আগামী সোমবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘‌মা কিচেন’‌–এর সূচনা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এবারের বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্টে ‘‌মা’‌ প্রকল্পের অধীন রাজ্যব্যাপী কমন কিচেন তৈরি করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এই বাবদ আগামী অর্থবর্ষে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দর ঘোষণা করেছেন মমতা। এ ব্যাপারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‌রাজ্যের দুঃস্থ মানুষজন যাতে দু’‌বেলা খেতে পায় সেই লক্ষ্যে ‘‌মা’‌ নামে একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। যার মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় সকলের জন্য স্বল্প মূল্যে কমন কিচেন অর্থাৎ রান্না–করা খাবার দেওয়া চালু হবে।’

আরও পড়ুন:নেপাল-শ্রীলঙ্কাতেও বিজেপি সরকার! অমিত শাহের ইচ্ছাপূরণ জানিয়ে ফের বিতর্কে বিপ্লব

প্রসঙ্গত, পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের লাগাতার আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির জন্য বাজারও আগুন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য।
দোকান থেকে একপিস ডিম কিনতে এখন খরচ করতে হয় ৬ টাকা। আগামিদিনে আরও দামবৃদ্ধির আশঙ্কা। কিন্তু যদি ৫ টাকাতেই একথালা ভাত, সবজি, ডাল এবং সঙ্গে একটি পিস ডিমের ঝোল দেওয়া হলে উপকৃত হবে সাধারণ ও গরিব নিম্নবিত্ত মানুষ!

Advt