বেনজির! অমানবিক!! পার্কে বাবাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারলো মেয়ে

বেনজির! অমানবিক!! বাবাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারল মেয়ে । এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্তম্ভিত আট থেকে আশি সবাই । ভোটের আবহে যখন ফুটছে বঙ্গ, তখন কলকাতার বুকে এই ঘটনা ফের চাঞ্চল্য ছড়াল । নাড়া দিয়ে গেল মন, কোন পথে এগোচ্ছি আমরা!
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার বিকেলে। এদিন বিকেলে কলকাতার চাঁদপাল ঘাটের (Chandpal Ghat) সামনে পার্কে পোড়া মাংস পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ তদন্তে নেমে কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিল না আসল কারণ । কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে পড়ে কেউটে। পুলিশ
জানতে পারে, আধপোড়া ওই ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ আঢ্য। বাড়ি তোপসিয়ার ক্রিস্টোফার রোডে।
এরপরই ওই অঞ্চলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে থাকে পুলিশ। জানার চেষ্টা করে কিভাবে মৃত্যু হলো ওই ব্যক্তির। আর তাতেই উঠে আসে এক রোমহর্ষক চাঞ্চল্যকর তথ্য । যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে মৃতর নিজের মেয়ে।এরপরই বছর বাইশের পিয়ালিকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। জেরায় উঠে আসে নয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য। যা শুনে চক্ষু চড়কগাছ দুঁদে পুলিশ অফিসারদেরও ।
পুলিশের দফায় দফায় জেরায় এক সময় ভেঙে পড়েন পিয়ালী। তিনি জানান, শনিবার রাতে বাবাকে নিয়ে প্রথমে রেঁস্তোরায় গিয়েছিলেন ডিনারের জন্য। তারপর খাওয়া শেষ হলে পরিকল্পনা মাফিক বাবাকে নিয়ে পার্কে আসেন গল্প করবেন বলে ।
২২ বছরের পিয়ালির বিয়ে হলেও ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর সে বাবার কাছেই থাকতো। অন্যদিনের মতো সেদিনও মদ্যপান করেছিলেন বিশ্বজিত । পিয়ালির অভিযোগ, বাবা মদ্যপান করে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। তাই তিনি বাবাকে খুনের ছক কষেন। চাঁদপাল ঘাটের পার্কে বাবা নেশার ঘোরে ঘুমিয়ে পড়তেই কেরোসিন ঢেলে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন পিয়ালী।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কত রাতে ঘটেছিল এই ঘটনা। একটা জলজ্যান্ত মানুষ পুড়ল, অথচ স্থানীয়রা কেউ টের পেলেন না? একা একটি তরুণীর পক্ষে এত সহজে একটি জ্যান্ত মানুষকে পোড়ানো সম্ভব? না কি তাকে অন্য কেউ সাহায্য করেছিল?
জানা গিয়েছে, বিশ্বজিৎ এর পৈতৃক বাড়িটি ১০০ বছরের পুরানো। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইদানিং আর্থিক অনটনে ভুগছিল পরিবারটি। কারণ, বিশ্বজিৎ বৈঠকখানা রোডের একটি ছোট প্রেসে কাজ করতেন ।
কিন্তু কেন এই খুন ? শুধুমাত্র প্রতিশোধ স্পৃহা নাকি সম্পত্তি? নতুন কোনও সম্পর্কে কী জড়িয়ে পড়েছিলেন পিয়ালি? নাকি মানসিক বিকার? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নর্থ পোর্ট থানার পুলিশ।