দুষ্কৃতী তাণ্ডবে পুড়ে ছাই ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁয়ের শেষ স্মৃতিটুকু

বাংলাদেশের ব্রাহ্মণ্যবেড়িয়া এলাকায় একদল দুষ্কৃতীর তাণ্ডবে শেষ হয়ে গেল ওস্তাদ আলাউদ্দিন (ustad Alauddin Khan)খাঁর শেষ স্মৃতিটুকু। স্থানীয়দের অভিযোগ ‘হেফাজতে ইসলাম’ সংগঠনের সমর্থকরা এই তান্ডব চালিয়েছে। দুষ্কৃতীরা ভগ্নপ্রায় বাড়িটিকে শুধু ভেঙ্গে গুড়িয়ে তছনছই করেনি, আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দিয়েছে প্রয়াত ওস্তাদের সমস্ত ব্যবহৃত সামগ্রী। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কী কারনে এই তান্ডব? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে সে দেশের বেশ কয়েকটি সংগঠন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। অভিযোগ তারই প্রতিফলন ঘটেছে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ এর স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটির উপরে। যদি ইতিমধ্যে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে বাংলাদেশ জুড়ে। সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

জানা গিয়েছে, ছেড়ে মধ্যপ্রদেশের চলে গিয়েছিলেন ওস্তাদজি। তারপর ১৯৫৬ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেল রোডের এই বাড়িটি কিনেছিলেন। যদিও ওস্তাদজির জন্মস্থান শিবপুর গ্রামে আরও দুটি বাড়ি অছে। তবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে হওয়ার দরুণ এবং যাতায়াত ও যোগাযোগের সুবিধা থাকায় ব্রাহ্মণবেড়িয়ার এই বাড়িতেই বেশি থাকতেন ওস্তাদজি। পরে এই বাড়িটিকেই সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। ২০১১ সালে এই বাড়িতে মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা হয়। ততদিনে লোকমুখে এই বাড়িটির নাম হয়ে গিয়েছে ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’। যে নামের ফলকটি ধ্বংস হওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত বজায় ছিল।

কী ছিল বাড়িটিতে ? মিউজিয়াম কক্ষ তো ছিলই। আর ছিল বেশ কয়েকটি ক্লাসরুম, প্রশাসনিক কক্ষ, সরোদমঞ্চ এবং একটি স্টোররুম। মাইহার ঘরানার স্রষ্টার সমস্ত চিহ্ন ছড়িয়ে ছিল বাড়িজুড়ে। তবে এই বাড়িতে আক্রমন এই প্রথম নয়। এর আগেও মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হয়েছে এই সংগ্রহশালা। ২০১৬ সালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে একদল মাদ্রাসা ছাত্র আগুন লাগিয়ে দেয় মিউজিয়াম কক্ষে। সে বার আলাউদ্দিন খাঁর ব্যবহৃত দুটি সরোদ, দুটি বেহালা, একটি সন্তুর, একটি ব্যাঞ্জো ও একটি সারেঙ্গি, তাঁর হাতে লেখা অন্তত ২৫টি চিঠি, হজের সময় সৌদি আরবের বাদশাহর দেওয়া জায়নামাজ, ব্রিটিশ শাসনাধীন তৎকালীন ভারতের দেশীয় রাজ্য মাইহারের রাজা বৃজনাথ সিং-এর দেওয়া রেওয়াজের দুটি গালিচা, তাঁর নিজের একটি বড়ো ছবি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।