রেললাইনে কাজ করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু রেলকর্মীর

ফের প্রশ্নের মুখে রেল পরিষেবা। এবার যাত্রীদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে, ফলকনামা এক্সপ্রেসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হল তিন রেলকর্মীর। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন কর্মী। শনিবারের এই ঘটনায় রেলকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সূত্রের খবর এদিন সকালে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে খড়গপুর দুঁয়া এবং বালচক এলাকায় লাইনে মেরামতি করছিলেন রেলের গ্যাংম্যানরা। তখন সেই লাইন ধরেই আসছিল ফলকনামা এক্সপ্রেস। কিছু বুঝতে পারার আগেই রেলের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় তিন জন।

শনিবার সকাল দশটা নাগাদের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও রেল কতৃপক্ষের তরফ থেকে কোন উত্তর মেলেনি। কিন্তু স্থানীয় সূত্রের খবর, খড়গপুর দুঁয়া এবং বালচক এলাকার মাঝখানের লাইনে কাজ করছিলেন চারজন কর্মী। কর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনটি চলে আসে। অন্যদিকে গ্যাংম্যানেরা কাজে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে তারাও কিছু বুঝতে পারার আগে তাদের উপর দিয়ে দ্রুত গতিতে ট্রেনটি চলে যায়। ঘটনা স্থলেই তিনজনের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। এই ঘটনায় ভাগ্যের জোরে বেচে যায় একজন। তবে গুরুতর ভাবে আহত হন এক জন। তৎক্ষণাৎ ঘটনা স্থলে যায় রেলের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং অন্যান্য কর্মীরা। রেলের তরফ থেকে এই ঘটনায় তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানান হয়েছে। পাশাপআশি আর্থিক সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের সিপিআরও সঞ্জয় ঘোষ জানিয়েছেন, যখন লাইনের মেরামতির কাজ চলছিল সেই সময় তাদের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না কোন লাইন দিয়ে ট্রেন আসছে।কার্যত সেই কারণে এই ঘটনা বলে মনে করছেন তিনি। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে প্রাক্তন রেলকর্তা জানিয়েছেন ” বর্তমানে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ইঞ্জিনগুলোর শব্দ হওয়াতে সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে যখন কাজ করছিল রেল কর্মীরা তখন তারা বুঝতে পারেনি। তবে ট্রেনের চালক কেন দেখতে পায়নি বা দেখতে পেয়েও কেন হর্ন দেননি সেই বিষয় প্রশ্ন উঠেছে।”

Advt