‘এটা ইলেকশন নাকি বিজেপির সিলেকশন!’ বারুইপুরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপিকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে প্রচার শেষ হলেই, এলাকায় এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান বা বহিরাগতরা পুলিশের পোশাক পরে বিজেপির লোকেদের নিয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মমতা।

বারুইপুরের (Baruipur) সভামঞ্চ থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “আমি এমন নির্বাচন কোনও দিন দেখিনি। এটা ইলেকশন নাকি বিজেপির সিলেকশন! কার প্রমোশন হচ্ছে নজর রাখছি। বিজেপি যাকেই বলছে পরের দিন তাদের (কমিশনের নির্দেশে পুলিশ অধিকারিকদের বদলি প্রসঙ্গে) পালটে দিচ্ছে।”
বারুইপুরের আগে হাওড়ার আমতায় (Amta) সভা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে মমতা অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে এক প্রিসাইডিং অফিসার তাঁকে ভোট গ্রহণের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। ওই প্রিসাইডিং অফিসারকে এক সিআরপিএফ জওয়ান ভোট শুরু হওয়ার আগেই বলেন, “লিখে দিন গন্ডগোল হচ্ছিল, তাই গুলি চালানোর অর্ডার দিয়েছি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের হাতে, অমিত শাহের হাতে নয়। আপনাদের কে অধিকার দিয়েছে গুলি চালানোর।”

আরও পড়ুন-‘বয়ালকাণ্ড’ নিয়ে মমতার অভিযোগ উড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

সোনারপুরের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘একদিকে কোটি কোটি টাকা, বিজেপির সব মন্ত্রী, যত দুর্যোধন-দুঃশাসন-রাবণ আছে তারা বাংলায় এসেছে বাংলা দখল করতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৩ দিন হাসপাতালে ছিলাম, বাদবাকি দিন ছুটি নিইনি। পায়ের চিকিৎসা করিয়ে মিটিং করছি। মনের জোর বাংলা জয় করতে বেরিয়েছি।’

এদিন বাড়ির মহিলাদের শাঁখ বাজিয়ে, উলু দিয়ে সবাইকে সতর্ক করে জোটবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেন মমতা। বাড়ির মহিলাদেরই এই লড়াই লড়তে বলেছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি দেখতে চাই এই মোদি, অমিত শাহের বিরুদ্ধে লড়াইটা বাড়ির মহিলারা জিতুক।” আর তিনি এই লড়াইয়ে সবার সঙ্গে আছেন বলেও আশ্বাস দেন। মমতা আরও বলেন, “রাতে টহল দাও, মহিলারাও সজাগ থাকুন। গদ্দাররা পুলিশের পোশাক কিনে এনে হুমকি দেওয়াচ্ছে।”











