মঙ্গলবার থেকেই দেশ জুড়ে লকডাউন, ঢাকার হাসপাতালে আইসিইউ বেডের হাহাকার

খায়রুল আলম,ঢাকা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার রোধ করতে ও আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে লকডাউনের মতো কঠিন কর্মসূচি নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে দেশে সর্বাত্মক লকডাউন।
এদিকে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যু বেড়েই চলেছে।  গত কয়েকদিন যাবত প্রতিদিন গড়ে সাত হাজারেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে । এসব রোগীর মধ্যে যাদের আগে থেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগ, ক্যান্সার ও কিডনিজটিলতাসহ একাধিক রোগব্যাধি রয়েছে তাদের একটা অংশের জন্য আইসিইউতে চিকিৎসা জরুরী হলেও বেডের অভাবে তাদের চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না।
ফলে আইসিইউয়ের একটি বেডের জন্য মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে হন্যে হয়ে ঘুরছেন । কিন্তু কোথাও ভর্তি করাতে পারছেন না। ফলে আইসিইউতে চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিনই করোনা রোগীর মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজধানী ঢাকায় মুমূর্ষু করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) মাত্র একটি বেড ফাঁকা রয়েছে। সরকার ১০টি সরকারি হাসপাতালকে করোনা হাসপাতাল ঘোষণা করেছে। এই ১০টি হাসপাতালে সর্বমোট আইসিইউ বেডের সংখ্যা ১৩২টি। এর মধ্যে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৩১টি বেডে রোগী ভর্তি রয়েছেন। শতাংশের হিসাবে ৯৯ দশমিক ২৪ শতাংশ আইসিইউ বেড করোনা রোগীতে পরিপূর্ণ। ফলে বেড ফাঁকা না থাকায় চাইলেই মুমূর্ষু কোনও করোনা রোগীকে ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু সরকারি হাসপাতালেই নয়, করোনো ডেডিকেটেড ৯টি বেসরকারি হাসপাতালেরও একই পরিস্থিতি । নয়টি বেসরকারি করোনা হাসপাতালে সর্বমোট আইসিইউ বেডের সংখ্যা ৩১৩টি। মঙ্গলবার পর্যন্ত রোগী রয়েছেন ৩০৬টি বেডে। অর্থাৎ প্রায় ৯৮ শতাংশ বেড রোগীতে পূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ১০টি ডেডিকেটেড হাসপাতালের ১৩২টি শয্যার মধ্যে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের ১৬টি আইসিইউ শয্যার ১৬টিতে, ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা হাসপাতালের ১০টি শয্যার ১০টিতে, ২৫০ শয্যার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের ১৬টির মধ্যে ১৬টিতে, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ছয়টির ছয়টি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০টি শয্যার ২০টিতে, মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ১৯টি শয্যার ১৯টি, শহীদ সোহরাওয়ার্দির ১০টির ১০টিতেই এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ২০টি শয্যার ২০টিতেই রোগী ভর্তি রয়েছেন। শুধুমাত্র রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের ১৫টির মধ্যে ১৪টিতে অর্থাৎ একটি বেড ফাঁকা রয়েছে।
শুধু আইসিইউ বেডই নয়, সাধারণ বেডও ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী , সরকারি হাসপাতালে দুই হাজার ৬০৮টি সাধারণ শয্যায় এ মুহূর্তে রোগী ভর্তি দুই হাজার ১৬২জন। ভর্তিযোগ্য বেড ফাঁকা রয়েছে মাত্র ৪৪৬টি।

Advt