বিক্ষিপ্ত অশান্তিতে মিটল ভোট-পঞ্চমী

বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেই শেষ হল পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ। শনিবার, মোট ৬ জেলার ৪৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হল। সকালে বিধাননগরের শান্তিনগর ও বেলায় কল্যাণীর (Kalyani) গয়েশপুরে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়।

কল্যাণী বিধানসভার গয়েশপুরের বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। বোমার আঘাতে আহত হন এক বিজেপি (Bjp) কর্মী। বিজেপির বুথ সভাপতিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। ভোটারদের ভোট দানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখান ভোটাররা।

শান্তিপুরের 175 নম্বর বুথের মৌচাক কলোনির সাহা পুকুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে রাজা দেবনাথ নামে এক বিজেপি কর্মীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী ৷ এরপর তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

বসিরহাট উত্তর বিধানসভায় আইএসএফ (Isf) প্রার্থী বাইজিদ আমিন উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ শাসকদলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল ৷

পঞ্চম দফায় ফের গুলি চালানোর অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে৷ শীতলকুচির পর এবার দেগঙ্গায় (Deganga)৷ দেগঙ্গার কুড়ুলগাছি এলাকায় গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে৷ তবে, গুলি চালানো হয়নি বলে দাবি বাহিনীর৷ গ্রামবাসীদের দাবি, প্রথমে লাঠিচার্জ করে বাহিনী৷ তারপরেই গুলি চালায়।

রণক্ষেত্র বিধাননগরের শান্তিনগরে (Shantingar)। তৃণমূল-বিজেপি-র (Tmc-Bjp) মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। আহত হন দুপক্ষের বেশ কয়েকজন। শান্তিনগরের পর উত্তেজনা ছড়ায় নয়াপট্টি ৷ অভিযোগ, এলাকার ভোটারদের ভয় দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন বিজেপি প্রার্থী সব্যসাচী দত্ত (Sabyasachi Dutta)৷ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা৷

চাকদহে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দাপাদাপির অভিযোগ নির্দল প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ভোটারদের ভয় দেখানোরও অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা ঘিরে ধরলে অস্ত্র ফেলে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয়রা তাঁকে ধরে ফেলেন। আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ওই নির্দল প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি,দুষ্কৃতীরা পিস্তল ছুড়ে দিয়ে পালায়। তিনি পিস্তলটি পুলিশের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

পঞ্চম দফায় শিলিগুড়িতে (Siliguri) বুথ জ্যামের অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতা রাজু বিস্ত এবং শঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে৷ তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা৷ অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন রাজু বিস্ত-শঙ্কর ঘোষ দু’জনেই৷

উত্তর ২৪ পরগনা কামারহাটি কেন্দ্রে পঞ্চম দফা ভোট গ্রহণের সকাল থেকেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পালা। ভোটের দিন কামারহাটিতে প্রচুর বহিরাগত ঢুকিয়েছে বিজেপি, বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র (Madan Mitra)। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, একটি বুথে গেলে তাঁর শরীর তল্লাশি করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। জওয়ানদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র।

আরও পড়ুন- চলতি বছর রঞ্জি ট্রফি আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিল বিসিসিআই

কামারহাটিতে বিজেপি প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ির উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। বহিরাগতদের নিয়ে এসে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।

বরানগরের বিকেসি কলেজে ইভিএম বিভ্রাট ঘিরে গোলমাল। দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ ভোটাররা। খবর পেয়ে যান বরানগরের বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্র। তাঁকেও ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। বিকেলে ফের তিনি বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় তাঁকে।

আরও পড়ুন- পাহাড়ের মানুষ দিদিকেই চায়, ভোট দিয়ে বললেন বিমল গুরুং

মিনাখাঁয় বিজেপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ। পাশাপাশি, অভিযোগ, মিনাখাঁর তেলেনিপাড়ার বিজেপি এজেন্ট ভানু ভুঁইঞাকে অপহরণ করা হয়। ঘণ্টা দুয়েক পরে খোঁজ মেলে সেই বিজেপি এজেন্টের। কিন্তু কে বা কারা তাঁকে অপহরণ করেছে, তা জানা যায়নি।

রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানান, রাজারহাট-গোপালপুরের সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিআইএম প্রার্থী সপ্তর্ষি দেব। তাঁর অভিযোগ, ছাপ্পা ভোট ও বুথ দখল হয় এলাকায়।

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভোটের হার ৭৮। জলপাইগুড়িতে ৮১.৭১ শতাংশ, কালিম্পংয়ে ৬৯.৫৬ শতাংশ, দার্জিলিংয়ে ৭৪.৬ শতাংশ, উত্তর ২৪ পরগনায় ৭৫.১৪ শতাংশ। পূর্ব বর্ধমানে ৮০.৩৪।