সৌমিত্রর ভর্ৎসনা হজম করে শুভেন্দু বললেন, “সিরিয়াসলি নিচ্ছি না”

সতীর্থের কাছে প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা শুনে কার্যত ঢোঁক গিললেন শুভেন্দু অধিকারী (Shubhendu Adhikari)। সাংবাদিক বৈঠকে সৌমিত্র খাঁকে (Soumitra Khan) ‘ভাই’ বলে সম্মোধন করে বিষয়টিকে ‘সিরিয়াসলি’ নিলেন না বিরোধী দলনেতা।

এদিন রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ হয়। তারপরেই সাংবাদিক বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বাজেট সম্পর্কে বলার পরেই সাংবাদিকরা তাঁকে সৌমিত্র খাঁর ফেসবুক লাইভে (Facebook Live) আক্রমণ করার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। সেখানে শুভেন্দু বলেন, “আমি এ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করব না। অনেকেরই এমন অভ্যাস রয়েছে। এগুলো খুব একটা সিরিসায়লি না নেওয়াই ভাল। সৌমিত্র খাঁ আমার ভাই। ওঁকে নিজের রাজনৈতিক সতীর্থ বলে মনে করি। আমি দিল্লি গেলে সৌমিত্রর বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করি। ওর কথায় কিছু যায় আসে না। আমি চাই ওর শ্রীবৃদ্ধি হোক। ২০১১ সালে সৌমিত্র যখন জোটের প্রার্থী ছিল, ওর হয়ে প্রচারও করেছিলাম। এ সবকে গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল। আমিও গুরুত্ব দিচ্ছি না। এ নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।” ফের তিনি সংযোজন করেন, “কারোর কারোর ফেসবুক লাইভ করার অভ্যাস আছে। অনেকের স্বভাব চাপা, অনেকে প্রকাশ্যে বলে দেয়। আমি এটা খারাপভাবে নিচ্ছি না।” উল্টো তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এটা সিরিয়াসলি নিচ্ছি না। আপনারা সিরিয়াসলি নিচ্ছেন কেন?”

কিন্তু শুধু তো শুভেন্দু অধিকারী নন, ফেসবুক লাইফে সৌমিত্র খাঁ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন। এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে একা সৌমিত্র নন, এদিন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিলেন বিরোধী দলনেতা। নিজের ফেসবুক পেজে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন রাজীব। তবে সে নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি শুভেন্দু।

বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান শুভেন্দু অধিকারী এবং যোগ দিয়েই রীতিমতো দলের রাশ হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আদি বিজেপি তো বটেই নব্যদেরও অনেকেই ক্ষুব্ধ বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিরোধী দলনেতা হওয়াকেও অনেক বিজেপি নেতা-কর্মী ভালো চোখে দেখছেন না। সদ্য বিজেপি (Bjp) ছেড়ে তৃণমূলে (Tmc) যাওয়া অনেকেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে দলীয় সাংসদের থেকে তীব্র আক্রমণ শুনে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তা হজম করা ছাড়া শুভেন্দুর আর কোনও গতি নেই বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন- পোড়া পোড়া গন্ধ, দমবন্ধ! মন্ত্রিত্ব না পাওয়া “অতৃপ্ত” বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের কটাক্ষ কুণালের