Wednesday, March 25, 2026

খাঁচায় বন্দি কৈশোর! সরকারি সাহায্যের আশায় অসহায় পরিবার

Date:

Share post:

কাঠের খাঁচায় বন্দি জীবন। যে জীবন ছোটে না। দৌড়োয় না। খাঁচা বন্দি কৈশোর। কাঠের খাঁচাতেই বিশেষভাবে সক্ষম কিশোরীর দিন কাটে কোচবিহারের মাথাভাঙ্গাতে৷ বড় ছেলে কলেজে পড়ে। ১৬ বছরের মেয়ে বিশেষভাবে সক্ষম। তাই নিরুপায় পরিবার। সুযোগ পেলেই অন্যত্র চলে বাড়ি ছেড়ে। তাই এভাবেই কাঠের বাক্সে তাকে রেখেছে পরিবার। অর্থাভাবে চিকিৎসা সম্ভব হয়নি।

মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীর দিন কাটে কাঠের বাক্সের ঘেরাটোপে। সরকারি সহায়তা না পেয়ে হতাশ দিনমজুর পরিবার। কিশোরীর মা সুচিত্রা বর্মন জানিয়েছেন, নিরুপায় হয়ে দিনের বেলা কাতরাতে কাতরাতে কাঠের ঘেরার মধ্যেই পড়ে থাকে মেয়ে। তিনি করুন কন্ঠে বলেন,  “টাকাপয়সার অভাবে  চিকিৎসা করাতে পারছিনা মেয়ের।” সরকারি সহযোগিতার আর্জি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সুচিত্রা বর্মন আরও জানিয়েছেন,”সরকারি কোনো সাহায্য বা কোনো সংস্থা থেকে সাহায্য মেলে তাহলে ঝিলিককে সুস্থ করে তুলতে সুবিধা হবে”

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কাঠের বাক্সে বন্দি হয়ে চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে মাথাভাঙ্গার বরাইবাড়ি এলাকার ১৬ বছরের ঝিলিক বর্মন। বিশেষভাবে সক্ষম শংসাপত্রে ৭৫ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও মেলেনি সরকারি কোনো সাহায্য বলে অভিযোগ মা সুচিত্রা বর্মনের। সুচিত্রা বর্মন গৃহবধূ। বাবা শ্যামল বর্মনের দিনমজুরি করে কোনরকমে সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হয়। বড় ছেলে শিবু বর্মন (১৯) কলেজে পাঠরত।
ঝিলিকের মা সুচিত্রা বর্মন জানান জন্মের পর থেকেই তার মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন। এরপর মেয়ে বেড়ে উঠতে থাকলে কথা বলা ও ঠিকমত হাঁটা চলা করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবার। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি জন্মের থেকেই হাত ও পা শীর্ণকায় কোমর বেকে গিয়েছে বর্তমানে। হাঁটা চলা করতে না পারায় বাড়িতেই একটি কাঠের ঘেরায় বন্দি হয়ে দিনকাটে।

আরও পড়ুন-পাকিস্তানে বাসের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, ৯ চিনা নাগরিকসহ মৃত অন্তত ১৩

ঝিলিকের মা ও বাবা জানান, নিজের হাতে খাবার খেতে পারে না ঝিলিক। সকাল হতেই বাবা অন্ন জোগাড়ের তাগিদে বেড়িয়ে যান মা নিজেই সবসময় দেখাশোনা করেন। পড়াশোনা নেই। মা সুচিত্রা বর্মন জানান, বিষয় সম্পত্তি কিছু বিক্রি করে কয়েক বছর আগ উদয়পুর, ব্যাঙ্গোলুরুতে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গেলেও সুস্থ হয়ে ওঠেনি মেয়ে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকরা জানান, এর কোনো সুচিকিত্সা নেই। ফিরে এসে বর্তমানে বাড়িতেই অসহায়ভাবে দিন কাটছে ওই কিশোরীর। এমতাবস্থায় চরম সংকটের মধ্যে দিনযাপন করছে ওই পরিবার। কোনরকম সরকারি সুযোগ সুবিধা না পেয়ে চরম অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছে এই পরিবার।

 

Related articles

কেমন আছেন সোনিয়া গান্ধী: রাতে হাসপাতালে প্রিয়াঙ্কা

রাজ্যসভার সাংসদ তথা কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi) মঙ্গলবার রাতে আচমকা অসুস্থ হয় পড়ায় তাঁকে...

ভোটের আগে ২৩টি কমিটি-পর্ষদের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা মুখ্যমন্ত্রীর

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিয়ম মেনে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, কমিটি ও পর্ষদের শীর্ষপদ থেকে ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা...

‘গোটা রাজ্য’ অ্যাডজুডিকেশনে! রাজ্যের মানুষের রক্তচাপ বাড়িয়ে নতুন ‘খেলা’ কমিশনের

নির্বাচন কমিশন চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া যেভাবে এআই এবং কমিশনের নতুন নতুন উদ্ভাবনী ক্ষমতার দ্বারা পরিচালিত করছে তাতে গোটা...

বিরোধীদের তীব্র আপত্তি উড়িয়ে লোকসভায় পাশ রূপান্তরকামী সংশোধনী বিল

প্রবল বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ হয়ে গেল রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) সংশোধনী বিল, ২০২৬। সংশোধিত এই বিল...