Wednesday, June 3, 2026

কেন্দ্রীয় সরকারের একচেটিয়া বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল

Date:

Share post:

কেন্দ্রীয় সরকারের যেভাবে একচেটিয়া বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল কংগ্রেস৷ যে ভাবে সংসদে কোনও আলোচনা না করে কেন্দ্র একতরফা ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা নিয়েই ক্ষুব্ধ তারা৷ আজ, মঙ্গলবার এই বিষয়ে তৃণমূল অভিযোগ করেছে, এভাবে বেসরকারিকরণ করা হলে বহু সাধারণ মানুষ কাজ হারাবেন৷
তৃণমূলের রাজসভার মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায় অভিযোগ করেছেন, ২৫ থেকে ৩০ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা৷এটা এক তরফা ঘোষণা৷এমনকি তাঁর দাবি, প্রাকৃতিক সম্পদ এভাবে কোনও সংস্থাকে লিজ দেওয়া যায় না৷ এভাবে চললে মানুষের জীবন নষ্ট হবে৷ অ্যাসেট মানিটাইজেশন নিয়ে সংসদে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তৃণমূল সাংসদ৷

আরও পড়ুন – ভোট পরবর্তী হিংসা মামলা: স্পেশ্যাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের নজরদারিতে অতিরিক্ত দায়িত্বে অখিলেশ সিং
প্রকল্পটির পক্ষে নির্মলা সীতারমণের বক্তব্য ছিল, কোনও অব্যবহৃত সামগ্রী, যার কোনও মালিকানা নেই, সম্পদ হলেও যা দিনের পর দিন অবহেলায় পড়ে রয়েছে, সেসবের নির্দিষ্ট অর্থমূল্য ধার্য করে বেসরকারি সংস্থার সাহায্যে ব্যবহার করা হোক। তবে এই অর্থের লভ্যাংশ থাকুক কেন্দ্রের হাতে। তাতে কোষাগারের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা তাঁর। কীভাবে এই কাজ হবে, তার জন্য বেশ কয়েকটি ধাপের কথাও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। নীতি আয়োগের (Niti Ayog) সিইও অমিতাভ কান্ত অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবের আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, চার বছর পর এসবের নির্দিষ্ট মূল্য স্থির করা হবে।

অর্থমন্ত্রকের যুক্তি, আর্থিক সংকটমোচনের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগে জোর দেওয়া হচ্ছে৷ কেন্দ্রের তরফে বলা হয়, বেসরকারি বিনিয়োগ টেনে পরিকাঠামোর সংস্কার এবং বিকল্প আয়ের রাস্তা তৈরি করার জন্য পাওয়ার গ্রিড পাইপলাইন বা জাতীয় সড়কের মতো বিষয়গুলিতে এবার বেসরকারি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।এই তালিকায় রয়েছে দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেন, রেল, জাতীয় সড়ক, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহণ, তেল ও গ্যাসের পাইপ লাইন থেকে শুরু করে ২৫টি বিমানবন্দর, কলকাতা-হলদিয়ার মতো জাহাজ বন্দরের পরিকাঠামো।এগুলি ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহারের জন্য তুলে দেওয়া হবে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার হাতে। এই তালিকায় রয়েছে খেলার স্টেডিয়ামও। তবে সমস্ত ক্ষেত্রেই এই সব সরকারি সম্পদ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেসরকারি সংস্থাকে শুধু ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে। মালিকানা থাকবে সরকারের হাতেই। বিরোধীদের অভিযোগ, আদতে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির রাস্তাই ধাপে ধাপে খুলে দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।কেন্দ্রীয় সরকারের এই ঘোষণার পরই তীব্র প্রতিবাদে সরব তৃণমূল৷ বিষয়টি নিয়ে সংসদে সরব হবেন বলেও জানিয়েছেন সুখেন্দুশেখর৷

advt 19

 

Related articles

ফের সরকারি প্রকল্পের নাম বদল! ‘মা ক্যান্টিন’ এবার ‘মা আহার’, ডিম সরিয়ে মাছ-ভাতের বিজ্ঞাপন

ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল সরকারের একাধিক প্রকল্পের নাম বদলের পথে হাঁটছে বিজেপি সরকার (BJP Government)। এবার সেই তালিকায়...

স্টুডিও পাড়ার ‘দুর্নীতি’ সাফ করতে টলিউডে SIR! ঘোষণা ‘মোদির সেনাপতি’ পাপিয়ার 

টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেই স্টুডিও পাড়ার 'দুর্নীতি' সাফ করার বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়িকা পাপিয়া অধিকারী (MLA...

বছরের পর বছর বেআইনিভাবে বাড়ি দখলের অভিযোগে গ্রেফতার জয়প্রকাশ

বাড়ি জবরদখলের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার (TMC leader Jayaprakash Majumdar)। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে...

সরকারি কর্মচারীদের অফিস টাইমিং নিয়ে কড়া নির্দেশিকা নবান্নের

সরকারি কর্মচারীদের অফিসে ঢোকা - বেরোনোর সময় নিয়ে কড়া রাজ্য (State Government instruction regarding Office Arrival and Departure)।...