এই মুহূর্তে রাজ্যে করোনার (Corona) প্রকোপ প্রায় নেই বললেই চলে। তাই শাসক দলের পক্ষ থেকে উপনির্বাচনের (By poll) জন্য বারবার নির্বাচন কমিশনের (EC) কাছে দরবার করা হচ্ছে। বিভিন্ন জেলার ৭ বিধানসভার মানুষ তাদের বিধায়ককে না পেয়ে কার্যত অভিভাবকহীন। তাই শূণ্য আসনগুলিতে দ্রুত উপনির্বাচন প্রয়োজন। অন্যদিকে, করোনার দোহাই দিয়ে প্রকাশ্যে এখনই উপনির্বাচনের বিরোধিতা করছেন রাজ্য বিজেপি (BJP) নেতারা৷ উদ্দেশ্য, একদিকে নিশ্চিত হারের ভয় অন্যদিকে তৃণমূলকে (TMC) অস্বস্তিতে ফেলা। কারণ, উপনির্বাচনে একটি আসন থেকে প্রার্থী হবেন মুখ্যমন্ত্রী (CM) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Baberjee) স্বয়ং। তাই কমিশন ভোটের জন্য এগোতে চাইলেও কেন্দ্রের শাসক দলের জন্য আবার বিলম্ব করছে।

তবে রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর, নিজের উপনির্বাচনের বিরোধিতা করলেও তলে তলে প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নাকি ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপিকে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি নেতৃত্ব। তথ্য-পরিসংখ্যান-আইন-কানুন তুলে ধরে তৃণমূল কমিশনের উপর যেভাবে চাপ সৃষ্টি করছে, সেক্ষত্রে কমিশন যদি পুজোর আগেই উপনির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দেয়, তাহলে প্রচার প্রস্তুতিতে ব্যাকফুটে চলে যাবে গেরুয়া শিবির। সেটা ধরে নিয়েই ৭ কেন্দ্রের প্রার্থী ও আনুষাঙ্গিক সাংগঠনিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের রাজ্য নেতাদের।

এদিকে আবার বিধানসভা ভোটের মতো উপনির্বাচনেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। রাজ্য বিজেপির একটি প্রভাবশালী লবির পরামর্শে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রাথমিক ভাবে চেয়েছিল, নিজেদের জেতা শান্তিপুর ও দিনহাটা ছাড়া বাকি ৫ আসনে আগের প্রার্থীদেরই বহাল রাখা হোক। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও সামসেরগঞ্জে ভোট না হওয়ায় যাঁরা প্রার্থী ছিলেন, তাঁদের নাম বিবেচিত হোক।

যদিও কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিগত নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনে রাজ্যের উপরে একতরফা ছড়ি ঘুরিয়ে ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশরা। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। জযোগ্য প্রার্থী চয়নের ভুল বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়। তাই এবার আর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে দিতে রাজি নন রাজ্য নেতারা।


আরও পড়ুন- তালিবানের মতোই বর্বর RSS-VHP ও বজরং দলের সমর্থকরা: কড়া বিবৃতি জাভেদের


বিজেপি সূত্রে খবর, শিবপ্রকাশকে রাজ্য নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শান্তুিপুর ও দিনহাটা ছাড়া অন্তত আরও তিনটি আসনে তারা আগের প্রার্থীদের চায় না। প্রার্থী হওয়ার উপযুক্ত দাবিদার যাঁরা, তাঁদের মধ্য থেকেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যাতে উপযুক্ত প্রার্থীকে বেছে নেয়, এমনটাই চাইছেন রাজ্য নেতারা। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ডেকে তাঁদের সঙ্গে কথাও বলেছে রাজ্য নেতৃত্ব।
