Wednesday, June 3, 2026

যখন পড়বে না তাঁর পায়ের চিহ্ন ওই বাটে… শেষ যাত্রায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়

Date:

Share post:

হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর আজ বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। তিনি আসলেনও। তবে তাঁর প্রাণহীন দেহ আসল তাঁর বাড়িতে। শেষ বারের জন্য। না ফেরার দেশে চলে গেলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। বাড়ির সামনে অনুরাগীদের ভিড়। চোখে জল। শোকের আবহ বালিগঞ্জের পাড়ায়। কারো প্রিয় দাদা, কারো প্রিয় নেতা ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: “সুব্রত মুখার্জি অমর রহে”, বিধানসভায় শ্রদ্ধা রাজ্যপাল-স্পিকারের

বিধানসভা থেকে বালিগঞ্জের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দেহ। শেষবারের জন্য মন্ত্রীর মরদেহ দেখতে তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমিয়েছেন পরিজন এবং অনুগামীরা। বাড়ি থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে একডালিয়া এভারগ্রিন ক্লাবে। একডালিয়ায় ভিড় জমিয়েছেন সুব্রতর অনুগামীরা। তাঁকে চোখের জলে বিদায় জানালেন পরিবারের সদস্য ও অনুগামীরা।

নাড়ু খেতে চেয়েছিলেন সুব্রত। তাঁর বোন বুলবুল চট্টোপাধ্যায় কথাও দিয়েছিলেন যে ভাইফোঁটার দিন নাড়ু খাওয়াবেন। তা নাড়ু বানিয়েও রেখেছিলেন। কিন্তু খাওয়া আর হলো না‌। ফোঁটা নেওয়ার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন দাদা সুব্রত।

আর কিছুক্ষণের মধ্যে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে গান স্যালুটে বিদায় জানানো হবে কেওড়াতলা শ্মশানে। শুক্রবার রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার কথা ছিল সুব্রতর। ভাইফোঁটার ঠিক আগের দিন। তিন বোন ঠিক করেছিলেন, দাদা বাড়ি ফিরলে দেখা করতে যাবেন। সুব্রতর বাড়ির কাছাকাছি থাকতেন তাঁরা। এর মধ্যে একজন তনিমা চট্টোপাধ্যায়। তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তনিমা জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িতেই দাদার জন্মদিন থেকে ভাইফোঁটা পালন করা হত। ঢালাও খাওয়া দাওয়াও হত। সাবেকি খাবার পছন্দ করতেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পছন্দ করতেন পোস্তর বড়া, মাছের টক, পাঠার মাংস। কিন্তু এ বার সুব্রত অসুস্থ থাকায় খাবারের সেই বিপুল আয়োজন ছিল না। তবে যেহেতু সুব্রত মুখোপাধ্যায় খেতে ভালবাসতেন তা-ই নারকেল নাড়ুর মতো ইচ্ছেপূরণের ব্যবস্থা রেখেছিলেন বোনেরা। তবে সেই ইচ্ছে অপূর্ণই রয়ে গেল।

আরও পড়ুন: উনি দাদা আমি বোন, সম্পর্কের সেই সুতোটা আজ স্মৃতি হয়ে গেল: সুব্রতর প্রয়াণে শোকাহত মমতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের সারেঙ্গাবাদের ছেলে ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ছয়ের দশকে পড়তে  কলকাতায় আসেন তিনি। অ্যানথ্রোপলজিতে বিএসসি নিয়ে ভর্তি হন বঙ্গবাসী কলেজে পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিওলজি-তে মাস্টার্স। তারপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা মিউসিওলজি বা মিউজিয়াম স্টাডিজে। ছয়েরদশকে কংগ্রেসী ঘরানার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। শুরু করেছিলেন ছাত্ররাজনীতি দিয়েই। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির সঙ্গেই উত্থান তার। ১৯৭২-১৯৭৭ তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর এর মন্ত্রী ছিলেন। ঘনিষ্টভাবে কাজ করেছেন সিদ্ধার্থশংকর রায়ের সঙ্গে। কলকাতার ৩৬তম মেয়র তিনি।২০০০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত মেয়র পদে বহাল ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গেও সুব্রত মুখোপাধ্যায় যোগাযোগ ছিল নিবিড়।

 

 

Related articles

BSF-কে আরও প্রায় ৩২ একর জমি হস্তান্তর! অনুমোদন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে

ভারত-বাংলাদেশ (India- Bangladesh Border Security) সীমান্তে নজরদারি ও পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে আরও প্রায় ৩২...

২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গ দিবস: জানালেন দিলীপ, বছরভর শ্যামাপ্রসাদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালন

২০ জুন সরকারিভাবে পালিত হবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। বুধবার নবান্নে বৈঠকের পরে এই কথা জানালেন...

দক্ষিণবঙ্গের আজও হাঁসফাঁস করা গরম, বর্ষার কী আপডেট

বুধবার দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঊর্ধ্বমুখী উষ্ণতা (South Bengal Weather)। কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় রীতিমতো নাজেহাল হতে হচ্ছে অফিসযাত্রী...

অধীর বললেন, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, বেসুরোদের কোন স্বীকৃতি দিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমার!

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালে সেই তৃণমূল ভেঙে তৈরি হচ্ছে কোন দল? সেটাই...