Friday, April 24, 2026

‘আর ভাইফোঁটা হবে না আমাদের’: তনিমা চট্টোপাধ্যায়

Date:

Share post:

ভাঙল প্রথা। এবার আর ভাইফোঁটা হল না আমাদের। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের ভাইবোনেদের এই মিলন উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিলেন আমাদের প্রিয় দাদা সুব্রত মুখোপাধ্যায়। সেই দাদাই এবার নেই। প্রতি বছর এই দিনটার জন্য অপেক্ষায় থাকতাম আমরা বোনেরা। সব বোন এক জায়গায় জড়ো হতাম। দাদা আসবে।

আরও পড়ুন:‘থিম নয় সাবেকিয়ানা’:স্বপন মহাপাত্র

আমার বাড়িতেই হত এই অনুষ্ঠান। দাদাও অপেক্ষায় থাকত আমাদের মতোই। কোন কোন মিষ্টি চাই, আগেই জানিয়ে দিতেন। শুধু বলাই নয়, কোন দোকান থেকে আনতে হবে তাঁর পছন্দের মিষ্টি তাও বলে দিতেন দাদা। সেই সঙ্গে ছিল খাওয়াদাওয়ার আয়োজন। দাদা খুব বেশি খেতেন না। তবে একাধিক পদ ছিল তাঁর পছন্দ। সবই খেতেন একটু একটু করে। সব নিজেই ঠিক করে আমাদের বলে দিতেন। আমরা শুধু আয়োজন করতাম। এসব কত কথা আজ মনে পড়ছে। আর খাওয়ার পর পছন্দের একটা বড় আতা দাদার চাই। যাই কিছু ঘটে যাক ওই আতা দাদার চাই। খাওয়ার পর দাদা বসে বসে খুব তৃপ্তি করে সেই আতা খেতেন। দাদার জন্য গড়িয়াহাট মার্কেট থেকে সেই আতা আমি আগেই কিনে রাখতাম। একটা আতার দামই ছিল দু’আড়াইশো টাকা। নির্দিষ্ট দোকান থেকে সেই আতা দাদার জন্য কিনে আনতাম। ভাইফোঁটায় কী উপহার চাই তাও দাদা নিজেই বলে দিতেন। আমরা বোনেরা এক-একজন এক-একটা দাদার প্রিয় জিনিস উপহার দিতাম। আর ভাইফোঁটার পোশাকটা দিতাম আমি। আমার দেওয়া পোশাক পরেই সবার ফোঁটা নিতেন দাদা। দাদাও আমাদের নানা উপহার দিতেন। সব মিলিয়ে ভাইফোঁটার দিনটা ছিল আমাদের ভীষণ আনন্দের। সারা বছর এই দিনটা ভাইবোনেরা মিলে কাটাতাম। সেটাও ছিল একটা বড় পাওনা। কারণ, দাদাকে তো খুব বেশি কাছে পাওয়া যেত না।

আগে আমি থাকতাম এন্টালির কাছে সিআইটি রোডে। কিন্তু বয়স যত বাড়ছিল দাদা বলতেন, সবাই কাছাকাছি থাক। তাই আমাদের সবাইকে দাদা দক্ষিণ কলকাতায় টেনে আনে। দাদার কথা মেনেই এন্টালি ছেড়ে গত কয়েক বছর আমিও দক্ষিণ কলকাতাবাসী। ভাইবোনেরা সবাই একসঙ্গে কাছাকাছি থাকব, এটাই ছিল দাদার ইচ্ছে। তাঁর কথামতো আমরা কাছে এলাম, কিন্তু আজ সেই দাদাই আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন দূরে, বহুদূরে। ফলে এতদিনের প্রথা ভেঙে এবার আর ভাইফোঁটা হল না আমাদের। আর হবেও না। দিনটা কীভাবে কাটবে জানি না, বিশেষ করে দাদাকে ছাড়া। সকাল থেকে আমরা বোনেরা পালা করে বউদির সঙ্গে ছিলাম। তবে এই শূন্যতা তো কোনও কিছুতেই পূরণ হওয়ার নয়। উনি তো নামেই আমাদের দাদা। আসলে ওঁর ভূমিকাটা ছিল অনেকটা বাবার মতোই। সবাইকে আগলে রাখতেন। সেই মানুষটাই হঠাৎ এভাবে চলে গেলেন। জানি না এই শূন্যতা কীভাবে কাটবে।

Related articles

IPL: মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পারফরম্যান্সে হতাশ আকাশ, নেতৃত্ব হারাচ্ছেন হার্দিক?

পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন দল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) পারফরফরম্যান্স তলানিতে, চলতি মরশুমে মুম্বইয়ের ধারাবাহিকতার অভাব প্রকট। সেইসঙ্গে হার্দিক...

যিশুর জন্য ‘নো-কিসিং পলিসি’ ভাঙেন কাজল! কারণ কী

অভিনয় জীবনে পা দেওয়ার প্রথম থেকেই কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণরেখা টেনে দিয়েছিলেন কাজল (Kajol Devgon)। যেমন পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্য...

শান্তিপূর্ণ প্রথমদফায় বিপুল ভোটদানে খুশি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, কমিশনের আইনজীবীকে বাংলায় আমন্ত্রণ কল্যাণের

বৃহস্পতিবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) ভোটগ্রহণ হিংসামুক্ত, শান্তিপূর্ণ। ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। শুক্রবার এসআইআর...

শেষকৃত্য থেকে ফেরার পথে উত্তরাখণ্ডে খাদে ভ্যান, মৃত ৮

উত্তরাখণ্ডের(Uttarakhand) তেহরি গাড়োয়ালে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায়(Road Accident) মৃত্যু হল অন্তত ৮ জনের। বৃহস্পতিবার দুপুরে চম্বা-কোটি ন্যাল মার্গ সংলগ্ন...