Tuesday, March 24, 2026

মমি থেকেই গবেষকরা জানার চেষ্টা করেছিলেন ৫৩০০ বছর আগে মানুষ কী খেতেন

Date:

Share post:

১৯৯১ সাল নাগাদ ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার ওটজালে একটি প্রাকৃতিক মমির সন্ধান পাওয়া যায়। ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩৪০০ থেকে ৩১০০ শতাব্দীর মধ্যেই পৃথিবীতে বাস করতো এই প্রাচীন মানব(Old Human)।

এই ‘আইসম্যান’ বা প্রাকৃতিক মমিই(Mumy) বিজ্ঞানীদের(scientist) উৎসাহের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে বহু বছর ধরে। এই মমির নাম দেয়া হয় ওৎজি আইসম্যান। সেই মমি থেকেই গবেষকরা জানার চেষ্টা করেছিলেন, মমিটির বয়স কত। কী ভাবে মৃত্যু হয়েছিল এই ব্যক্তির। তার পশমের চামড়ার কোট, ছাগলের চামড়ার পোশাক, দাঁতের অংশ, গোড়ালি সবকিছুই নিয়েই শুরু হয় গবেষণা। জানা যায়, মমির বয়স প্রায় ৫৩০০ বছর।

ওৎজি দ্য আইসম্যান মারা যান হিমবাহের পাশেই। সেখানেই হাজার হাজার বছর ধরে মৃতদেহ সংরক্ষিত ছিল। এক দল গবেষক দাবি করেন, ওৎজিকে সম্ভবত পরিচিত কেউ খুন করেছিলেন। ২০০১ সালে ওৎজির বাঁ কাঁধে একটি তীরের সন্ধান মিলেছিল, যা দেখে সন্দেহ তাকে খুন করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, মৃত্যুর ক’দিন আগে ওৎজির ডান হাতে আঘাত লাগে। তবে তাতে তার মৃত্যু হয়নি। যেভাবে তীরটি এসে তার গায়ে লেগেছিল সেটা আকস্মিক ও অনেকটা দূর থেকে। তা থেকে সন্দেহ, হত্যাকারী তার পরিচিত ও বিশ্বাসঘাতক।

আরও পড়ুন:WOUNDS: টালিগঞ্জের ‘চায়ওয়ালা’-য় ইন্দ্রনীল গুপ্তর চিত্র প্রদর্শনীতে পুরনো কলকাতা

তার ত্বকের প্রতিটি ভাঁজ পর্যন্ত নথিভুক্ত করা হয়। কিন্তু সমস্যা হয়েছিল অন্য জায়গায়। পাওয়া যাচ্ছিল না পাকস্থলী। পরে সেই পাকস্থলীর অবস্থান নির্ণয় করেন বিজ্ঞানীরা। পাকস্থলীতে পাওয়া পরজীবী থেকে তাদের ডিম নিয়েও প্রাচীন যুগের বাসিন্দাদের খাদ্যাভ্যাস জানার চেষ্টা করা হয়।

বিজ্ঞানীরা জানান, তার পাকস্থলীতে বুনো ছাগলের মাংসের চর্বি ছিল। এছাড়া হরিণের মাংস ও প্রাচীন আমলের এক ধরনের খাদ্যশস্য এবং কিছুটা বিষাক্ত ফার্ন জাতীয় গাছের অংশও মিলেছে।

আইসম্যানের খাবারে চর্বির পরিমাণ ছিল দেখার মতো, ৫০ শতাংশ। আধুনিক খাদ্য তালিকায় খুব বেশি হলে ১০ শতাংশ ফ্যাট থাকে।

ইতালির বোলজানোর ইউর‍্যাক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর মামি স্টাডিজের বিজ্ঞানী ড. ফ্রাঙ্ক মেইক্সনার জানান, এই বরফ যুগের মানুষটির বাস যে স্থানে ছিল তা নিয়ে গবেষণা চলছে। তিনি যেখানে শিকার করছিলেন সেখানে দেহের জন্যে বাড়তি শক্তি দরকার। আর তা পেতে বাড়তি ফ্যাটও দরকার। রুক্ষ্ম পরিবেশে বেঁচে থাকতে প্রয়োজনীয় শক্তি একমাত্র ফ্যাটই দিতে পারে।

সম্প্রতি কারেন্ট বায়োলজিতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, তাম্র যুগে মানুষ কী খেত, তার ধারণা মেলে এই প্রাকৃতিক মমির থেকে। বছর বছর ধরে তার দেহ প্রাকৃতিকভাবেই মমিতে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক কারণেই পাকস্থলী স্থান বদল করেছিল। তবে দেহের ভেতরেই ছিল।

গবেষকরা বলেন, খাবারে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফ্যাট ছিল। কাজেই তা সুষম বলা যায়। শেষ খাবার ছিল মাংস। ইউরোপিয়ান আল্পসে এক ধরনের বুনো ছাগল ছিল, যার নাম আলপাইন আইবেক্স। খুব সম্ভবত এরই মাংস খেয়েছিলেন এই প্রাচীন মানুষ।

তবে তিনি ভেষজ খাবারও খেয়েছিল। চিকিৎসার কাজে কিংবা এমনিতেই। তার পাকস্থলীতে পাওয়া গেছে ব্র্যাকেন নামের এক ধরনের ফার্ন। এটা একটু বিষাক্ত। আবার এমনও হতে পারে, এই উদ্ভিদের পাতায় করে খাবার খেয়েছিলেন। আর ভুল করে কিছু ফার্নও তার পেটে চলে যায়।

তথ্যসূত্র: গ্রিন আর্থ। সৌজন্য: অকপট।

Related articles

ঘুচল বিচারাধীন তকমা! স্বস্তিতে তৃণমূল-বিজেপি প্রার্থীরা

নির্বাচনের (Election 2026) আগে বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থীরা (TMC BJP Candidate)। 'বিচারাধীন' তকমা ঘুচে অতিরিক্ত...

ISL: ভোটের জন্য বদল হতে পারে মোহনবাগান-ইন্টার কাশি ম্যাচের দিন

রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ২ দফাতেই হবে ভোট। নির্বাচনের প্রভাব পড়ছে খেলাধুলাতেও। ডার্বির দিন যেমন বদল...

শর্তসাপেক্ষে রামনবমীর মিছিলের অনুমতি কলকাতা হাইকোর্টের 

হাওড়ার রামনবমী (Ram Navami) মিছিলে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট...

IPL: পাথিরানাকে নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, ফিটনেস পরীক্ষায় অনুপস্থিত কেকেআর পেসার

আইপিএল (IPL) শুরুর আগে পাথিরানাকে (Pathirana )নিয়ে চিন্তা ক্রমশ বাড়ছে কেকেআরের(KKR) । চোট পাওয়ার পর ফিটনেস পরীক্ষা দিতে...