Train Accident: ইঞ্জিনে ত্রুটি থাকার কারণেই কী ট্রেন দুর্ঘটনা? তদন্তে রেল আধিকারিকরা

ময়নাগুড়ির দোমহনিতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার নেপথ্যে কারণ কী তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটির গঠন করা হয়। আপ বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ইঞ্জিনের যে সমস্যা ছিল প্রাথমিক তদন্তে তা স্পষ্ট হয়েছে।  রেল সূত্রে জানা গেছে, এই ইঞ্জিন ছিল ওয়াপ ফোর ক্যাটিগরির। এতে চারটি করে ট্র্যাকশন মোটর থাকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ইঞ্জিনের একটি ট্র্যাকশন মোটর ভেঙে পড়েছিল। তা বুঝতে পারেন লোকো পাইলট ও সহকারী লোকো পাইলট। কিন্তু তাতেও সমাধান করা যায়নি। ট্র্যাকশন মোটর খুলে পড়তেই চালক আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। ট্রেনের ১২টি বগি লাইনচ্যুত হয়।

আরও পড়ুনঃRoopa Ganguly:বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে ট্রেন দুর্ঘটনার CBI তদন্তের দাবি করলেন দলের সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়

এই ট্রাকশন মোটরের কাজ হল, চাকা ঘোরানো। রেলের ইঞ্জিনে এমন ৪টি ট্র্যাকশন মোটর থাকে। তার একটি খুলে পড়ে যায়। যদিও এই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই ময়নাগুড়ির দোমহনিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে কি না, সবকিছু পরীক্ষার পর, তা নিশ্চিত করে জানাবেন রেলওয়ে সেফটি কমিশনার।

ট্রেনটির চালক ও সহকারী চালক জানিয়েছেন, ট্রেনটি  বেগ ঘণ্টায় ৯৫ থেকে ১০০ কিমি ছিল। আচমকাই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করেন তাঁরা। এমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেনটি থামানো হয়। তারপরই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়ির দোমহনি রেল দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ভারতীয় রেলের তরফে উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গড়া হয়। শুক্রবার তদন্তে নেমে ইজি আরপিএফ লোকো পাইলট ও সহকারী লোকো পাইলটকে ডেকে পাঠান। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে একথা জানা যায়। যদিও আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জয় চন্দর জানান, ‘রেলেওয়ের পদস্থ আধিকারিকরা তদন্ত করে ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটি থাকার কথা বলছেন। সব দেখে আমারও তাই মনে হয়েছে। তবে, কী থেকে কী হয়েছে, তা রেলওয়ে সিকিওরিটি কমিশনারই বলবেন।’

এদিন সকালে আরপিএফের ডিজি ময়নাগুড়ি পৌঁছনোর আগেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সেখানে পৌঁছে যান। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ইঞ্জিনটি পরিদর্শনের পর বিকানের এক্সপ্রেসের চালকের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। এর পর রেলের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে রেলের ট্র্যাক পরিদর্শন করেন।ফের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেলমন্ত্রী বলেন,  আচমকা ইঞ্জিনের একটি যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাওয়ার কারণেই বিপত্তি। তবে, রেল দুর্ঘটনার বিশদ কারণ পরে তদন্তকারী কমিটিই জানাবে বলেই জানান অশ্বিনী বৈষ্ণব।এদিন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের উত্তরবঙ্গ মেডিকাল কলেজে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন রেলমন্ত্রী। এরপর দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব।

ময়নাগুড়ির দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য। হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেবাংশু বলেন, “রেলমন্ত্রী কাছে অনুরোধ এই পুরোনো কোচগুলি চালানো বন্ধ করুন।”

শুক্রবার বেলার দিকে দুর্ঘটনাস্থলে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরপরই তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্স করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকানের এক্সপ্রেসে ছিলেন অনেক পরিযায়ী শ্রমিক। জানা গেছে করোনার বাড়বাড়ন্তের জেরে বাড়ি ফিরছিলেন শ্রমিকরা। বাড়ি পৌঁছনোর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। তাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ পটনা-গুয়াহাটি বিকানের ১৫৩৬৬ এক্সপ্রেসটি লাইনচ্যূত হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ইঞ্জিনের পর থেকে ১২টি কামরা লাইনচ্যূত হয়ে যায়। একটি কামরার উপর উঠে যায় আর একটি কামরা। একাধিক কামরা লাইনচ্যূত হয়ে যায়। এমনকি একটি কামরা জলেও গিয়ে পড়ে।উদ্ধারকাজের শুরুতে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৭ হলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯ হয়। এছাড়াও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল ও জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে আরও ৪২ জনের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Previous articleবিধাননগরে ১০ দিগন্তের ইস্তেহার প্রকাশ: নিকাশি, পানীয় জল সহ এলাকার উন্নয়নে জোর