Wednesday, June 3, 2026

স্মৃতিচারণে লতা : সারাদিন জল খেয়ে রেকর্ডিং করেছি!

Date:

Share post:

লতা মঙ্গেশকরের আসল নাম হেমা। ১৯২৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ। বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর। যিনি একজন নাট্য অভিনেতা ও গায়ক ছিলেন।আগের নাম হেমা থাকলেও বাবার “ভাব বন্ধন” নাটকে “লতিকার” চরিত্রে প্রভাবিত হয়ে হেমার নাম বদল করে রাখা হয় লতা।

আরও পড়ুন:Lata Mangeshkar:প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর

যতীন্দ্র মিশ্রর বই “লতা সুর গাথা” তে লতা বলেছেন..তাকে ভেবে, “সত্যম শিবম সুন্দরমের” চিত্রনাট্য লিখেছিলেন রাজ কাপুর। অনেক আগে উনি চেয়েছিলেন মুখ্য ভূমিকায় আমি অভিনয় করি। আমার ইচ্ছে না থাকায় আমি না করে দিয়েছিলাম ওই প্রস্তাবে। যদিও ছবি তৈরিতে কোনও বাধা হয়নি। অনেক পরে ৮০ র দশকে যখন আবার ছবিটি তৈরির কথা ভাবেন তখন জিনাত আমানকে নেন ছবিতে।

লতাজির প্রথম উপার্জন ছিল ২৫ টাকা । প্রথম বার মঞ্চে গাওয়ার জন্য লতা ২৫ টাকা উপার্জন করেছিলেন। লতা ১৯৪৪ সালে মারাঠি ছবি ‘কিটি হাসাল’ এর জন্য প্রথম গান গেয়েছিলেন। লতা মঙ্গেশকরের ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর এবং বোন ঊষা মঙ্গেশকর, মিনা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলে সকলেই সঙ্গীতজ্ঞ।

বলিউডে লতা মঙ্গেশকরকে নিজের ছোট বোনের মত দেখতেন দিলীপ কুমার। আবার লতাও দিলীপ কুমারকে সব থেকে কাছের মানুষ মনে করতেন ইন্ডাস্ট্রিতে। একবার দিলীপ কুমার লতার উপর খুব রেগে গিয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে লতা নিজের প্রথম প্রোগ্রাম করছিলেন, যেখানে অনুষ্ঠান শুরু করার জন্য দিলীপ কুমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দিলীপ কুমার নিজের কাজ ভীষণ মন দিয়ে করতেন এবং ছোট ছোট বিষয়ে খুব গুরুত্ব দিতেন। পাকিজা ছবির গান “ইনহি লোগো নে লে লি দুপাট্টা মেরা” এই গানটি দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে নিমরাজি ছিলেন তিনি। লতাজিকে দিলীপ কুমার প্রশ্ন করেছিলেন, ” অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই গানটি কেন করতে চাইছেন আপনি?” লতা তখন দিলীপ কুমারকে বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন যে এই গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গান এবং মানুষ এটি শুনতে চাইছেন। কিন্তু তখন দিলীপ কুমারকে কোনভাবেই বোঝানো যায়নি। তিনি ভীষণ রেগে গিয়েছিলেন।

যতীন মিশ্রর বই, “লতা সুর গাথা”তে লতাজি বলেছেন, প্রায়ই রেকর্ডিং করতে করতে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়তাম আমি, আর ভীষণ খিদে পেত আমার। তখন রেকর্ডিং স্টুডিওতে ক্যান্টিন থাকত। তবে নানা রকম খাবার পাওয়া যেত কিনা মনে নেই। তবে চা-বিস্কুট খুঁজে পাওয়া যেত তা বেশ মনে আছে। এক কাপ চা আর দু চারটে বিস্কুট খেয়েই সারাদিন কেটে যেত। এমনও দিন গেছে যে দিন শুধু জল খেয়ে সারাদিন রেকর্ডিং করছি , কাজের ফাঁকে মনেই আসেনি যে ক্যান্টিনে গিয়ে কিছু খাবার খেয়ে আসতে পারি। সারাক্ষণ মাথায় এটাই ঘুরতো যেভাবে হোক নিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে আমাকে।

Related articles

১৮ বছর পর হাতে এল অফার লেটার! অবসরের বয়স পেরিয়ে মজিদ পেলেন ‘হতাশার’ চিঠি

সরকারি চাকরির স্বপ্ন বুনেছিলেন দুই দশক আগে। পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকায় জায়গাও করে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের চিঠি...

ফর্ম জমার আগেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা! কারা পেলেন সুবিধা? তালিকা নিয়ে কাঠগড়ায় বিজেপি

অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা থেকেই স্বচ্ছতার সওয়াল করে এসেছে নতুন বিজেপি সরকার। ভুয়ো উপভোক্তা ছেঁটে ফেলে প্রকৃত প্রাপকদের হাতে...

এবিভিপির চক্রান্তে মিথ্যা মামলায় ধৃত ছাত্রনেতা! শোকে হৃদরোগে মৃত্যু বাবার

ছেলের গ্রেফতারির ধাক্কা সহ্য করতে পারলেন না বাবা। মিথ্যা মামলায় পুলিশের হাতে ছেলের বন্দি হওয়ার খবর শুনেই হৃদরোগে...

‘হাজার হাজার হকারের পেটে লাথি মারা হয়েছে’, অবিলম্বে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ধর্মতলায় সরব মমতা

পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা তৃণমূলের নীতি নয়। আমরা সব সময় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সমস্যার সমাধান করেছি।...