বসন্তে রঙিন ওড়নায় সাজিয়ে তুলুন নিজেকে

ভারতীয় পোশাকের একটি অপরিহার্য অঙ্গ ওড়না। সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার বর্ণনাতেও দোপাট্টা বা ওড়নার কথা জানা যায়। কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? তাদের মতে এই ওড়না বা দোপাট্টা প্রাচীন উত্তরীয় থেকে তৈরে হয়েছে। বাঙালি মহিলারা যখন থেকে চুড়িদার নামক পোশাকটিকে আপন করে নিতে পেরেছেন, তখন থেকেই ওড়না জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। কলকাতা শহরের একটু রক্ষণশীল পরিবারে আজও ওড়না শরীরের সামনের দিক আবৃত করে না থাকলে ভাল চোখে দেখা হয় না। কিন্তু এই ওড়না বা দোপাট্টা শুধু কী শরীরকে আচ্ছাদন করে?
বাস্তব কিন্তু অন্য কথা বলছে। বসন্তের এই কলকাতায় রঙিন ওড়না তৈরি করতে পারে আপনার নিজস্ব সাজের ধরন। ভিন্ন ভিন্ন পোশাকের সঙ্গে আপনি ওড়নাও গায়ে রাখতে পারেন বিভিন্ন কায়দায়।
কী ভাবে?

১। ওড়না নেওয়ার সবচেয়ে পরিচিত ধরন হল দুই কাঁধের উপর দিয়ে বুকের উপর ঝুলিয়ে নেওয়া। এটি যথেষ্ট মার্জিত এবং সহজ উপায়। যে কোনও উৎসব অনুষ্ঠানেও এই ভাবে আপনি বহন করতে পারেন নিজের ওড়না। এই ধরনটি সুতি এবং লিনেনের ওড়নার জন্য যথাযথ।
নিজের সাজকে একটু অন্য মাত্রা দিতে আপনি এক কাঁধেও পিন দিয়ে আটকে নিতে পারেন নিজের ওড়না। ভাঁজ করে পুরোটা একবারে এক কাঁধে আটকে নিলে চেহারায় আসবে গাম্ভীর্য। আবার ওড়না সম্পূর্ণ ছেড়ে দিয়ে শুধু মাঝখানের অংশ কাঁধে আটকে নিলে আপনার উপস্থিতি অনেক বেশি প্রাণোচ্ছল বলে মনে হবে। বসন্তের দিনগুলিতে এই তো চাই।
। ওড়না দিয়ে বেঁধে নিতে পারেন মাথায় সুন্দর পাগড়ি। ইদানীং নতুন প্রজন্মের মহিলাদের মধ্যে এই সাজ ভীষণ ভাবে চোখে পড়ছে। রঙিন কোনও ওড়না দিয়ে মাথায় পাগড়ি বেঁধে রাখলে অন্য রকম সাজ তো হবেই, সঙ্গে চুলও রোজকার দূষণ থেকে রেহাই পাবে।

৪। দু’দিকে ওড়নার দুই প্রান্ত ভাল ভাবে গিট বেঁধে ব্যবহার করতে পারেন পাতলা শ্রাগের মতো করেও। জিনস এবং টপের উপর কিংবা স্কার্টের সঙ্গে এ ভাবে ওড়না নিলে ভিড়ের মাঝখানেও আপনি আলাদা ভাবে চোখে পড়বেন নিশ্চিত।
৫। কলকাতা শহরের বসন্তেও শীতের শিরশিরে ভাব পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। এই সময়ে নিজের সাজে ওড়নাকে একটু অন্য ভাবে সঙ্গী করতে পারেন আপনি। গলায় এক-দু’পাকে পেঁচিয়ে মাফলার পরার মতো করে ওড়না নিতে পারেন। দু’প্রান্তে ঝুলিয়ে দিন সুন্দর লটকন। আপনার এই ব্যতিক্রমী সাজ অবশ্যই হবে নজরকাড়া।

Previous articleWeather Forecast:চড়ছে তাপমাত্রা,বিদায় বেলাতেও ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস