চিন্তন বৈঠকে বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস নেতাদের বার্তা সোনিয়ার, তোপ মোদিকেও

বিক্ষুব্ধ জি-২৩(G-23) নেতাদের শুরু থেকে অভিযোগ ছিল একের পর এক নির্বাচনে হার সত্ত্বেও কংগ্রেস(Congress) শীর্ষ নেতৃত্ব গা করছে না। দলে গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে সভাপতি করারও দাবি তুলেছিলেন তাঁরা। এই সকল নেতাদের উদ্দেশ্যেই দলের চিন্তন বৈঠকে শুক্রবার বার্তা দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী(Sonia Gandhi)। এদিন তিনি জানিয়ে দিলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যর্থতা আমার অজানা নয়। জয়ের জন্য যে সংঘর্ষ করতে হবে, তা কতটা কঠিন, তা-ও আমার অজানা নয়। আমাদের কাছে মানুষের প্রত্যাশাও আমার অজ্ঞাত নয়।” পাশাপাশি ওই বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে(Narendra Modi) তোপ দাগেন সোনিয়া।

সোনিয়ার বক্তৃতার পরে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা ভাবে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে সোনিয়া বলেন, “এখানে নিজের মনের কথা খুলে বলুন। কিন্তু বাইরে শুধু একটাই বার্তা যাওয়া দরকার— মজবুত সংগঠন, দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ও ঐক্যের বার্তা।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমি এটা জোর দিয়ে বলতে চাই যে, আমাদের পুনরুত্থান শুধু বড় রকম ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাতেই হতে পারে। আর সেই বিশাল ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা পিছনো হবে না। এই চিন্তন শিবির সেই সফরেরই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” শুধু তাই নয়, রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ শিবিরের বরাবরই বক্তব্য ছিল, জি-২৩-র অনেক নেতারই ক্ষোভের আসল কারণ রাজ্যসভার সাংসদ পদ বা সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ পদ না পাওয়া। সে প্রসঙ্গেও সোনিয়া এদিন বলেন, “এখন ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার থেকে সংগঠনের মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পার্টি আমাদের সবাইকে অনেক কিছু দিয়েছে। এ বার তার ঋণ শোধ করার সময়। এর থেকে জরুরি আর কিছু নেই।”

আরও পড়ুন: ৩০ বছর ধরে ৬০ ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহ করে গ্রেফতার শিক্ষক- সিপিএম নেতা

এছাড়াও এদিন দলের চিন্তন বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তোপ দাগেন সোনিয়া। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নীতি হল, দেশে পাকাপাকি ভাবে মেরুকরণ করে রেখে, মানুষকে নিরন্তর আতঙ্ক, নিরাপত্তার অভাবের মধ্যে থাকতে বাধ্য করা। যে সংখ্যালঘুরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাঁদের নিশানা করা, নির্যাতন করা। ইতিহাস বিকৃত করা। জওহরলাল নেহরু-সহ কংগ্রেস নেতাদের খাটো করা। মহাত্মা গান্ধীর খুনিদের মহিমান্বিত করা।” পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, “নরেন্দ্র মোদীর বহু বার আওড়ানো ‘ম্যাক্সিমাম গভর্ন্যান্স, মিনিমাম গভর্নমেন্ট’-এর অর্থ হল, ফাঁপা স্লোগান, নজর ঘোরানোর কৌশল এবং মরমি স্পর্শের প্রয়োজনের সময় ‘সুবক্তা’ বলে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা।” এই সরকারের মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেন সোনিয়া।




Previous articleরহড়ায় কৌটা বোমা বিস্ফোরণে কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য