মূল্যবৃদ্ধির জের, গম রফতানি বন্ধ করল কেন্দ্র

ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) দ্বারা জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৩ মে বা তার আগে লেটার অফ ক্রেডিট (LC) জারি করা হয়েছে এমন চালানগুলির রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে।

মূল্যবৃদ্ধির জের পাশাপাশি উৎপাদনের ঘাটতি, এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র সরকার(Central Government)। গম রফতানি বৃদ্ধির পরিকল্পনা ঘোষণার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে, অভ্যন্তরীণভাবে ক্রমবর্ধমান মূল্য নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভারত সরকার (Government of India) অবিলম্বে গমের রফতানি (Wheat export) নিষিদ্ধ করেছে। সরকার এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) দ্বারা জারি করা ঐ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৩ মে বা তার আগে লেটার অফ ক্রেডিট (LC) জারি করা হয়েছে এমন চালানগুলির রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে।

মার্চ মাসে তাপপ্রবাহের কারণে ফসলের বিপুল ক্ষতির পরে গম রফতানি নিষিদ্ধ করল সরকার । এছাড়া, এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৭.৭৯ শতাংশ হওয়ার কারণে সরকার অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “সরকার ভারত থেকে গম রফতানি বাড়ানোর সম্ভাবনা অন্বেষণের জন্য মরক্কো, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, আলজেরিয়া এবং লেবাননে বাণিজ্য প্রতিনিধি দল পাঠাবে৷ ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে বিশ্বব্যাপী শস্যের জন্য ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে ভারত রেকর্ড ১০ কোটি টন গম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে৷” ডিজিএফটি (DGFT) বলেছে যে গমের রপ্তানি অবিলম্বে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিজিএফটি আরও স্পষ্ট করেছে যে ভারত সরকার অন্যান্য দেশে তাদের খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে এবং তাদের সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে গম রফতানি অনুমতি দেওয়া হবে। একটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে, ডিজিএফটি পেঁয়াজ বীজের জন্য রফতানি শর্ত সহজ করার ঘোষণা করেছে। ডিজিএফটি বলেছে, পেঁয়াজ বীজের রফতানি নীতি অবিলম্বে সীমিত বিভাগে রাখা হয়েছে। এর আগে, পেঁয়াজ বীজ রফতানি নিষিদ্ধ ছিল।

কী কারণে নিষেধাজ্ঞা?

কারণ ব্যাখ্যা করে, সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে যে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা পরিচালনা করার জন্য এবং প্রতিবেশী এবং অন্যান্য দুর্বল দেশগুলির চাহিদাকে সমর্থন করার জন্য, কেন্দ্রীয় সরকার অবিলম্বে গম রফতানি নিষিদ্ধ করেছে।তবে ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা গম রফতানির জন্য অনুমতি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য চিনের পরে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ। এ বছর গমের উৎপাদন অনুমান করা হয়েছে ৯.৫ কোটি টন, সরকারের অনুমান ছিল ১০.৫ কোটি টন। অর্থাৎ সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রায় এক কোটি টন কম গম উৎপাদন হতে পারে। গমের দাম বাড়ানোর কারণে আটার দামও বেড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে ।



Previous articleদলের চিন্তন বৈঠকের মাঝেই কংগ্রেস ত্যাগ বর্ষীয়ান নেতা সুনীলের