হজরত মহম্মদকে নিয়ে বিজেপি(BJP) মুখপাত্র নূপুর শর্মার(Nupur Sharma) বিতর্কিত মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে চাপে পড়েছে ভারত(India)। ভারতের রাষ্ট্রদূতদের তলব করার পাশাপাশি ইরান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছে। পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থিত অরগানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (OIC) নূপুরের মন্তব্যের নিন্দা করে জানায়, ইসলাম ধর্মের প্রতি টানা বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। এই ইস্যুতেই এবার মুখ খুলল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, আরব দেশগুলির তরফে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক’ ও ‘সংকীর্ণ মানসিকতার’।


সোমবার ভারতের তরফে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বিবৃতি জারি করে জানান, ”ভারত OIC-র মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে। এই বিবৃতি অযৌক্তিক এবং সংকীর্ণ মানসিকতার। ভারত সরকার প্রত্যেক ধর্মের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে।” পাশাপাশি ইসলাম দেশগুলির এই বিবৃতিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর এবং রহস্যজনক’ বলে উল্লেখ করেছে অরিন্দম বাগচী বলেন, “ভারত সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের প্রতি অপমানজনক মন্তব্য এবং টুইট করেছে একজন ব্যক্তি। তা কখনওই, কোনওভাবেই ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হতে পারে না। এমন ধরনের মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।”
আরও পড়ুন:‘অপরাজিত’ মৌলিক ভাবনা কি? তদন্ত হোক: এবার ফেসবুকে ট্রেলার পোস্ট করে দাবি কুণালের

উল্লেখ্য, গত ৪ জুন নূপুর শর্মার একটি মন্তব্য গোটা দেশে বিতর্ক তৈরি করে। ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হজরত মহম্মদের (Hazrat Mohammad) বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিজেপি মুখপাত্র। তাঁর মন্তব্যের পর কানপুরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। নুপুরের ওই মন্তব্যের পর কানপুরের প্যারেড মার্কেটে বনধের ডাক দেয় স্থানীয় সংখ্যালঘু সংগঠন। কিন্তু স্থানীয় দোকানদাররা দোকানপাট বন্ধ রাখতে রাজি হয়নি। তাতেই বিবাদের সূত্রপাত। এরপর বচসা ক্রমে ভয়াবহ আকার নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আধা সেনা নামায় যোগী সরকার। ১৮ জনকে গ্রেফতার করে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দায়ের হয় মামলা। যদিও গ্রেফতার করা হয়নি এই পরিস্থিতির জন্য মুলত দায়ি নুপুরকে। তবে তাঁকে সাসপেন্ড করে মুখরক্ষা করে বিজেপি।



















