নবান্নে মমতার সঙ্গে বৈঠক শোভনের, বৈশাখী বললেন অভিমানের প্রাচীর ভেঙে গিয়েছে

১৪ আগস্ট ২০১৯ তৃণমূল ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন শোভন বৈশাখী। তবে গেরুয়া শিবিরে বেশিদিন সংসার করতে পারেননি তাঁরা। ১৪ মার্চ ২০২১-এর পর আর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি শোভন-বৈশাখীকে

আজ, বুধবার আচমকা নবান্নে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বিশেষ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠক করেন। এরপর নবান্ন থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন শোভন-বৈশাখী। তাহলে কি তাঁরা তৃণমূলে ফিরছেন? শোভনবাবু বিষয়টি খোলসা না করলেও বৈশাখীদেবীর মন্তব্যে কিন্তু তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। এই মুহূর্তে শোভন-বৈশাখী কেউই কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। প্রসঙ্গত, ১৪ আগস্ট ২০১৯ তৃণমূল ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন শোভন বৈশাখী। তবে গেরুয়া শিবিরে বেশিদিন সংসার করতে পারেননি তাঁরা। ১৪ মার্চ ২০২১-এর পর আর কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি শোভন-বৈশাখীকে।

আপনি কবে তৃণমূলে ফিরছেন বা হঠাৎ কেন নবান্নে আগমন? নবান্ন থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে কৌশলী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দিদির সঙ্গে ভাই দেখা করতে আসবে এর মধ্যে নতুন কিছু নেই। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের দেখা হয়েছে। আর যেখানে আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, সেই জায়গা থেকে বলি ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমার জীবনের সমস্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর নির্ভর করেছে। তাঁর নির্দেশ, আদেশ, অনুরোধ আমি মেনে এসেছি।”

আপনি কি রাজনৈতিক সন্ন্যাস থেকে তাহলে এবার বেরিয়ে আসছেন? মুচকি হেসে শোভন বলেন, “এই বাংলার বুকে অরাজনৈতিক বলে কেউ আছে?”

তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঘণ্টাখানেকের এই বৈঠক নিয়ে শোভন কিছু খোলসা না করলেও তাঁর বিশেষ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শোভন তৃণমূলে ফিরছেন কিনা
সময় বলবে। ওনার সঙ্গে আজ রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। উনিও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আমিও চাই শোভন রাজনীতিতে ফিরে আসুক। ওর এখনও রাজনীতিতে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। দিদি ওকে মন থেকে কোনওদিন দূর করতে পারেননি। মাঝে কিছুটা অভিমান নিশ্চয় হয়েছিল। কিন্তু সেই অভিমানের প্রাচীর ভেঙে গিয়েছে। আজও
শোভনের সঙ্গে ওনার মিষ্টিমধুর সম্পর্কের বিষয়টি উপভোগ করেছি আমি।”

তৃণমূলে যোগদানের ক্ষেত্রে রত্না চট্টোপাধ্যায় কোনও বাধা হবে? বৈশাখী সরাসরি উত্তর, “ওনার নামটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যাঁকে দেখে এই দলটি মানুষ করেন, তাঁর কাছে আমরা গিয়েছিলাম।”

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষন বৈঠকের পর সব মিলিয়ে শোভন-বৈশাখীর ঘরওয়াপসির একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একটি মহলের দাবি, একুশে জুলাই তৃণমূলের শহীদ সমাবেশের মঞ্চে ফের ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নিতে পারেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। তবে তারও উত্তর দেবে সময়।


Previous articleআরও সঙ্কটে কিংবদন্তি পরিচালক তরুণ মজুমদার,  আক্রান্ত সেপ্টিসিমিয়ায়