দোষী হলে আইনি পথে শাস্তি হবে, পার্থকে জুতো ছোঁড়া সমর্থনযোগ্য নয়, মন্তব্য কুণালের

হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময়ই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়েন এক মহিলা। ওই মহিলার নাম শুভ্রা ঘোড়ুই। তাঁর বাড়ি আমতলায়

দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এখন ইডি হেফাজতে। যত বড়ই নেতা হোন বা যতই প্রভাবশালী হোন, আর পাঁচজন অভিযুক্তের মতোই এখন আইনি পথে তাঁর “ট্রিটমেন্ট” চলছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। কিন্তু মঙ্গলবার জোকা ইএসআই হাসপাতালে ঘটে গেল, যা অনভিপ্রেত। এদিন রুটিন মাফিক মেডিক্যাল চেকআপের জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে জোকা ইএসআইতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময়ই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে জুতো ছোড়েন এক মহিলা। ওই মহিলার নাম শুভ্রা ঘোড়ুই। তাঁর বাড়ি আমতলায়। জোকা ইএসআইতে এদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন ওই মহিলাও। পার্থকে দেখেই নিজের পা থেকে জুতো ছুড়ে মারেন তিনি। তবে সেই জুতো পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গায়ে লাগেনি। গাড়িতে লেগে ছিটকে যায় জুতো। তা নিয়ে অবশ্য আফসোসও রয়েছে মহিলার।

এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে তৃণমূলের তরফেও। এদিন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এ প্রসঙ্গে উঠতেই বলেন, ”পার্থ চট্টোপাধ্যায় যদি অপরাধ করে থাকেন, প্রাথমিকভাবে যা তথ্য তাতে মুখ্যমন্ত্রী যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের কাছে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। দল কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে। যে ব্যবস্থা অতীতে সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি কেউ নেয়নি। এখন তাঁর অধিকার আছে, তিনি আইনের পথে লড়বেন। তিনি অপরাধ করেছেন যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যা যা শাস্তি আছে, পাবেন। আইন আইনের পথে চলবে। তিনি যদি কোনওভাবে দোষী প্রমাণিত হন। সত্যিই যদি তিনি দোষ করে থাকেন, তাঁর শাস্তি হবে। কিন্তু আইনের বাইরে কোনওরকম শাস্তি বা কোনও ধরনের কোনও দৃশ্যের অবতারণার যদি চেষ্টা হয়, তবে সেটা সুস্থ সমাজে কতটা গ্রহণযোগ্য, নিশ্চয়ই সবাই ভেবে দেখবেন। পার্থদা যদি খুব খারাপ কাজে যুক্ত হন, তার ব্যবস্থা তার মত হবে। সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে। দল নিয়েছে। আইন নেবে। কিন্তু এটা কোনও মধ্যযুগের শাসন বা মধ্যযুগীয় সমাজ নয়। কারোও মনে হল, কারোও ক্ষোভ হল, আর একটা কোনও ঘটনা ঘটিয়ে দিল, সেটা কোনওমতেই শোভনীয় নয়। সেটা সমর্থন করা যায় না।”

জানা গিয়েছে, জোকার ইএসআই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যই এসেছিলেন ওই মহিলা। আচমকা তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দেখে জুতো ছোড়েন। সংবাদমাধ্যমের সামনে শুভ্রা নামের ওই মহিলা বলেন, ”ওর উপর আমার রাগ ছিল, জুতো মেরে শান্তি পেয়েছি। আরও ভাল লাগত জুতোটা যদি ওর টাকে লাগত। মালা দিয়ে বরণ করলে কি ভাল লাগত আপনাদের?” এরপরই তাঁর সংযোজন, “এত মানুষের টাকা মেরে, চাকরি মেরে ফ্ল্যাট-বাড়ি কিনেছেন। আবার তাকে এসি গাড়ি করে এত খাতির করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! আমি ওকে জুতো মারতে এসেছি। জুতো মারা হয়ে গেছে। এবার খালি পায়ে ঘরে যাচ্ছি। এসি গাড়ি নয়, ওকে গলায় দড়ি দিয়ে টানতে টানতে নিয়ে আসা উচিত।”

আরও পড়ুন- “ওটা ওনার ব্যক্তিগত নয়”, এবার বিধানসভায় পার্থর ঘর বন্ধ করলেন স্পিকার

 

Previous articleEmami EastBengal: প্রতিক্ষার অবাসন, হয়ে গেল চুক্তিপত্র সই, পথ চলা শুরু ইমামি ইস্টবেঙ্গলের