চিনের নিষেধাজ্ঞাকে ‘থোড়াই কেয়ার’, তাইওয়ানের পাশে থাকার বার্তা ন্যান্সি পেলোসির

চিনের (China) সমস্ত বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে বুধবার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েনের (Tsai Ing-wen) সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আমেরিকার স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি (Nancy Pelosi)। এবার ন্যান্সির তাইওয়ান সফরের (Taiwan Tour) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল চিন। আমেরিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তড়িঘড়ি তলব করে পেলোসির তাইওয়ান সফর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এখানেই থেমে থাকেনি চিন। তাইওয়ান থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানির (Import) উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে চিনের তরফে। পাশাপাশি তাইওয়ানে বালি রপ্তানিও (Export) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার চিনের বাণিজ্যমন্ত্রকের একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে আপাতত তাইওয়ান থেকে মাছ এবং ফল আমদানি করা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যে অতিরিক্ত পরিমাণে কীটনাশক পাওয়ার কারনেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে।

তবে বুধবার ন্যান্সি বলেন, ওয়াশিংটন (Washington) এবং তাইপেইয়ের (Taipei City) মধ্যে বন্ধুত্ব (Relationship) আরও দৃঢ় করতে চেষ্টায় কোনও ত্রুটি রাখবে না আমেরিকা। ন্যান্সির কথায়, আমরা কখনও তাইওয়ানকে ছেড়ে যাব না। এই বার্তা দিতেই আমরা তাইওয়ানে এসেছি। ন্যান্সি জানান, আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। তাইওয়ানের সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইওয়ান সহ বিশ্বের সব জায়গায় যাতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আমেরিকা।

এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে তাইওয়ানের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটন ও তাইপেইয়ের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেজিং। পাল্টা দিয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টও। এদিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে বলেন, তাইওয়ান কখনও কারও সামনে মাথা নত করবে না। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা নাগাদ তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেইয়ের শোংসান বিমানবন্দরে (Songshan Airport) পৌঁছন ন্যান্সি পেলোসি। তবে এদিন ন্যান্সি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিমান অবতরণের সময় বিমানবন্দরের আলো কমিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, তাইওয়ানের আকাশে চিনা যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি নজরে আসে, আর সেই কারনেই বিমানবন্দরের আলো কমিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অন্ধকার বিমানবন্দরে টর্চ জ্বালিয়ে পেলোসি ও তাঁর সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানান তাইওয়ান সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে চিনের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ পেলোসি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে একাধিক টুইট করেন।

২৫ বছরেরও বেশি সময় পর ন্যান্সিই প্রথম শীর্ষ স্তরের কোনও মার্কিন আধিকারিক, যিনি তাইওয়ানে গেলেন। তবে ন্যান্সির তাইওয়ানে পা রাখার আগেই মঙ্গলবার আমেরিকাকে হুমকি দেয় চিন। সেদেশের বিদেশমন্ত্রীর মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দেন, মার্কিন স্পিকার তাইওয়ানের মাটিতে পা দিলে আমেরিকাকে তার মূল্য চোকাতে হবে। সব মিলিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে তৈরি হচ্ছে দু’পক্ষই।


Previous articlePakistan: সিংহের মূল্য মহিষের চেয়ে কম! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি