নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের ঠিক আগের দিনই প্রত্যাশামতোই শুরু হয়ে গেল ফোন যাওয়ার পালা। মন্ত্রী হওয়ার সবুজ সংকেত দিয়ে প্রথমেই ফোন পৌঁছাল মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তথা সদ্য প্রোটেম স্পিকারের দায়িত্ব সামলানো তাপস রায়ের কাছে। ফোন পেয়েছেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক অর্জুন সিং এবং শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তীও। এই ফোন-রাজনীতির আবহে সোমবার সকালেই লোকভবনে শপথ নিতে চলেছেন আরও ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী।

রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “আগামিকাল পশ্চিমবঙ্গের জনগণের রায়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রবাদী সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হতে চলেছে। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ৩৫ জন মন্ত্রী সকাল ১১টায় লোকভবনে শপথ গ্রহণ করবেন। মহামান্য রাজ্যপাল শ্রী আর এন রবি মহোদয় লোকভবনে তাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।” তবে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ করেননি।

এর আগে প্রাথমিক দফায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া শুধুমাত্র পাঁচজন মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেছিলেন। মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া ও ক্ষুদিরাম টুডু। এবার নতুন ৩৫ জন যুক্ত হলে মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৪১-এ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪ জন বিধায়কের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪৪ জন (১৫ শতাংশ) মন্ত্রী রাখা সম্ভব। বিজেপি নেতৃত্ব সেই ঊর্ধ্বসীমার মধ্যে থেকেই আপাতত ৪১ জনকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গ দল সাজাচ্ছে।

তাপস-অর্জুনদের ফোন পাওয়ার পাশাপাশি নতুন মন্ত্রীদের সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে। মন্ত্রিসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথা রাসবিহারী কেন্দ্রের বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে তাঁকে বড় কোনো দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ ছাড়াও সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় শঙ্কর ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, প্রণব টুডু, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, কল্যাণ চক্রবর্তী, চন্দনা বাউড়ি, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অশোক দিন্দা ও সুব্রত মৈত্রের মতো নামগুলি নিয়েও জোর চর্চা চলছে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আলাদা আলাদাভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরেই জুন মাসের প্রথম দিনটিকে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে রাজভবনের তত্ত্বাবধানে লোকভবনে কারা চূড়ান্ত শপথ নেন, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।

আরও পড়ুন – সোমে বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার গঠন-শপথ: জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

_

_
_
_
_
